একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হল চারটি রেক। সব মিলিয়ে একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য দাঁড়ালো ২.৮ কিলোমিটার! আরও একটি অসামান্য রেকর্ড গড়ল ভারতীয় রেল। এই বিশাল লম্বা ট্রেনটির নাম দেওয়া হয়েছে 'শেষনাগ'। এটি ভারতীয় রেলপথে তো বটেই বিশ্বেই সম্ভবত এখনও পর্যন্ত চলা দীর্ঘতম ট্রেন। চারটি খালি বিওএক্সএন র‌েক একত্রিত করে চারটি বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ ইঞ্জিনের মাধ্যমে সফলভাবে ইতিমধ্যেই যাত্রা শুরু করেছে 'শেষনাগ'।

রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এই কৃতিত্বের দারুণ প্রশংসা করে জানিয়েছেন শেষনাগ নামের এই দীর্ঘতম ট্রেন চলাচলের পরীক্ষা সফল হওয়ায় আরও দ্রুত ও সহজভাবে এক জায়গায় অন্য জায়গায় মাল পাঠানো সম্ভব হবে। এই অবিশ্বাস্য কীর্তিটি ঘটেছে ভারতীয় রেলের দক্ষিণ-পূর্ব - মধ্য রেল জোনের নাগপুর এবং কোরবা-র মধ্যে। ২.৮ কিলোমিটার লম্বা ট্রেনটিতে ওয়াগন রয়েছে ২৫১ টি!

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এখন বেশিরভাগ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলই স্থগিত রাখা হয়েছে। এই মুহুর্তে, ভারতীয় রেল রেলপথের জালে মালবাহী ট্রেনের চলাচলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে একসঙ্গে একাধিক মালবাহী রেকগুলি স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রথমত এতে পরিবহনের সময় কম লাগবে। সেইসঙ্গে একাধিক ট্রেন চললে রেলপথে যে ভিড় তৈরি হয়, একসঙ্গে একাধিক ট্রেন পাঠাতে পারলে সেই সমস্যারও সমাধান হয়।

এর আগে গত ৩০ জুন রেলমন্ত্রক 'সুপার অ্যানাকোন্ডা' নামে একটি ১৭৭ কোচ বিশিষ্ট মালবাহী ট্রেন চালিয়েছিল। দক্ষিণ-পূর্ব - মধ্য রেল জোনের বিলাসপুর বিভাগের উদ্যোগে চলেছিল সেই ট্রেন। বিলাসপুর থেকে চক্রধরপুরে ১৫০০০ টনেরও বেশি মাল নিয়ে গিয়েছিল 'সুপার অ্যানাকোন্ডা'। মোট তিনটি মালবাহী ট্রেন একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার 'শেষনাগ' ছাপিয়ে গেল 'সুপার অ্যানাকোন্ডা'কে।