সামান্য বাড়ানো হল ট্রেনের ভাড়া। বুধবার ভারতীয় রেল মন্ত্রক স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী ট্রেনগুলির ভাড়া সামান্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে, এখন যত ট্রেন চলছে, তারমধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ফের দেশে কোভিডের প্রাদুর্ভাব যখন বাড়ছে, তখন ট্রেনভ্রমণে মানুষকে নিরুৎসাহিত করার জন্যই এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে, বলে দাবি করেছে রেলপথ মন্ত্রক।

এদিন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যাত্রীবাহী এবং অন্যান্য স্বল্প-দূরত্বের ট্রেনগুলির জন্য এই সামান্য ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে অনাবশ্যক রেলভ্রমণ এড়ানোর জন্যই। রেলমন্ত্রক মনে করছে, বর্তমানে স্টেশনগুলিতে এবং ট্রেনে এমন অনেকেই ভিড় করছেন, যাঁদের ভ্রমণের খুব প্রয়োজনিয়তা নেই। এই যাত্রীদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করার জন্যই এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই ভাড়া বৃদ্ধি অসংরক্ষিত টিকিটের উপরই ধার্য করা হয়েছে।

রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, কোভিড মহামারির পর রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার করা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোভিডকালের প্রয়োজনীয় প্রোটোকলগুলি অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তাও দেখা হচ্ছে। কারণ, মন্ত্রক জানিয়েছে, কোভিড মহামারি দুর্বল হলেও, সম্পূর্ণ দূর হয়নি। বাস্তবে কয়েকটি রাজ্যে পরিস্থিতি ফের খারাপ হয়েছে। বেশ কয়েকটি রাজ্য থেকে আগতদের অন্য কয়েকটি রাজ্যে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে, ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রেলপথে ভিড় এবং কোভিড সংক্রমণ রোধ করতে এই ভাড়া বৃদ্ধির পদক্ষেপ একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২০ সালের ২২ মার্চ, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে দেশব্যাপী লকডাউন জারি করা হয়েছিল। ওই সময়ই বন্ধ হয়েছিল ভারতীয় রেলপথের নিয়মিত ট্রেন চলাচল। তারপর প্রথমে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়। সেই থেকে ধাপে ধাপে ভারতীয় রেল যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে। প্রাক-লকডাউন সময়ের তুলনায় বর্তমানে ৬৫ শতাংশ মেল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন এবং শহরতলিতে ৯০ শতাংশেরও বেশি লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু করা গিয়েছে। দৈনিক মোট ১২৫০টি মেইল ও এক্সপ্রেস, এবং শহরতলিতে ৫৩৫০টি লোকাল এবং ৩২৬টিরও বেশি যাত্রীবাহী ট্রেন চলছে।