সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীকে নিয়ে মঙ্গলবার একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরা। আর সেই ভিডিওর জেরেই বিমানে ওঠার ব্যাপারে কুণালের উপর জারি হল নিষেধাজ্ঞা। ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের বিমানে ঘটেছিল গোটা ঘটনা। সেই কারণে কুণাল কামরাতে ৬ মাসের জন্য তাদের বিমানে ওঠার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ। ফলত আগামী ৬ মাস ইন্ডিগোর কোনও বিমানেই আর উঠতে পারবেন না কুণাল। একই পথে হেঁটেছে এয়ার ইন্ডিয়াও।

 

বোর্ড ৬ই ৫৩১৭ বিমানে মুম্বই থেকে লখনউ যাচ্ছিলেন কুণাল। সেই বিমানেই তাঁর সহযাত্রী ছিলেন সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী। বিমানের মধ্যেই সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীকে নিয়ে নানারকমের মন্তব্য করেন এই স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান। সেই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। তারপরেই নিজেদের বিমানের মধ্যে এই ধরণের ঘটনা ঘটার পদক্ষেপ নিল ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স। ট্যুইটে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, "বিমানের মধ্যে অন্য এক যাত্রীর সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করার জন্য কুণাল কামরাকে ৬ মাসের জন্য বিমানের ওঠার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। এই ধরণের ব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না।"

 

কুণালকে নিয়ে ট্যুইট করেন অসামরিক বিমানমন্ত্রী হরদীপ পুরীও। তিনি লেখেন, "এই ধরণের ব্যবহার বিমানের মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে। সেক্ষেত্রে যাত্রী সুরক্ষায় সমস্যা হতে পারে। এই ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না। আমি অন্য বিমান সংস্থাগুলির কাছেও অনুরোধ করব কুণাল কামরার বিরুদ্ধে এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য।" 

 

এই নিষেধাজ্ঞা জারির পরও অবশ্য চুপ থাকেননি কুণাল। তিনি পাল্টা ট্যুইট করে ইন্ডিগোকে জবাব দিয়েছেন। কটাক্ষ করতে ছাড়েননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও। 

 

সেদিন বিমানে কী ঘটেছিল, তা নিজের মত করে ব্যাখ্যা করেছেন কুণাল। বলেন, বিমানে অর্ণব গোস্বামীকে দেখে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু উনি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাননি। উল্টে আমাকে মানসিক ভাবে অসুস্থ বলেন। তাই আমি ওনার ব্যাপারে কিছু কথা বলি। ঠিক যেভাবে উনি নিজের শো'তে সবার সঙ্গে কথা বলেন, আমিও সেটাই করেছিলাম। এই ঘটনার জন্য আমি প্রত্যেক বিমানকর্মী ও পাইলটের কাছে ক্ষমাও চাই। অন্যান্য যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাইলেও একজনের কাছে কিছুতেই চাইব না। 

 

যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীর।