ভারতের সবচেয়ে পরিষ্কার শহর হিসাবে পরিচিত মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহর। আর তার জন্য গোটা দেশের প্রশংসা পেয়ে থাকে এই শহরের পুরসভা। কিন্তু, এই 'পরিষ্কার' শহরেই সামনে উঠে এসেছে অমানবিকতার একটি চরম নোংরা ঘটনা। শুক্রবার, বেশ কটয়েকজন গৃহহীন বয়স্ক মানুষকে ইন্দোরের উপকণ্ঠে ক্ষিপ্রা এলাকায় রাস্তায় ফেলে দিয়ে আসা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিও ক্যামেরা বন্দি হয়েছে। আর অভিযোগের আঙুলটা উঠছে সেই পুরসভার দিকেই।

পুরকর্মীদের এই অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেন ক্ষিপ্রা-র স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন পুরকর্মীরা। জানা গিয়েছে, ইন্দোরে পৌর কর্পোরেশন পরিচালিত একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ক্ষিপ্রায় আনা হয়েছিল ওই বয়স্ক গৃহহীন পুরুষ ও মহিলাদের। শেষ পর্যন্ত, পুরকর্মীরা অবশ্য ওই অসহায় মানুষগুলিকে ফের ওই আশ্রয়কেন্দ্রেই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হন।

তবে, ওই অসহায় বয়স্ক গৃহহীন মানুষ গুলিকে আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেই রেহাই পাননি অভিযুক্ত পুরকর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকেই মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিওতে পুরকর্মীদের দেখা গিয়েছে কনকনে শীতের মধ্যে কয়েকটি ময়লা ফেলার ট্রাক বৃদ্ধ পুরুষ ও মহিলাদের রাস্তার ধারে নামিয়ে দিতে। তাদের সম্বল বলতে কিছু ছেঁড়াখোড়া ব্যাগ।

স্থানীয বাসিন্দারা প্রতিবাদ করলে, পুরকর্মীরা জানান, তাঁরা কর্মীমাত্র, উপর মহলের নির্দেশ পালন করছেন। কিন্তু, তাঁদের সেই কথায় ভোলেননি স্থানীয বাসিন্দারা। এই শীতে ওই সহায় সম্বলহীন বৃদ্ধ)-বৃদ্ধাদের ওই এলাকায় ফেলে দিয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান তাঁরা। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের চাপে পুরকর্মীরা ফের ওই ময়লা ফেলার ট্রাকে বয়স্ক পুরুষ ও মহিলাদের বসিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তবে এই ঘটনার ভিডিওগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ক্ষোভের ঢেউ সামলাতে ইন্দোর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের কমিশনার প্রতীভা পাতিল, তড়িঘড়ি এক উপ কমিশনার, ওই আশ্রয়কেন্দ্রের সুপারভাইজার এবং একজন মাস্টার কর্মীকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করেছেন। টুইট করে এই ঘটনা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান-ও। তিনি বলেন, ইন্দোরের জেলা কালেক্টরকে, ওই প্রবীণ-প্রবীণাদের সম্পূর্ণ যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইএমসি-র অতিরিক্ত কমিশনার জানিয়েছেন, ওই প্রবীণদের কেন রাজ্য সরকারের কোনও আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি, সেই বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।