মোদী সরকারের সমালোচনা করেছিলেন, বিজেপি সাংসদের কাছ থেকেই পাল্টা জবাবও পেয়েছিলেন। এবার শিল্পপতি রাহুল বাজাজের মন্তব্যের বিরোধিতা করলেন আর এক শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। সাফ জানিয়ে দিলেন, 'রাহুল বাজাজের মন্তব্য়ের সঙ্গে সহমত পোষণ করি না।  তিনি যা বলেছেন, তা কেন বলেছেন জানি না। তেমন কিছু আছে বলে তো মনে হয় না।'

দিন কয়েক আগে মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে শিল্পপতি রাহুল বাজাজ বলেন, 'কেন্দ্রের মোদী সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আর আস্থা নেই। দেশের এতটাই ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে, কর্পোরেট সংস্থাগুলিও স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে।' এরপরই টুইট করে রাহুল বাজাজের মতো প্রবীণ শিল্পপতিকে একহাত নেন বিজেপি-এর রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর। তিনি বলেন, ইউপিএ জমানায় যে সরকারি নীতি নির্ধারণে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করা যেত, এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কর্পোরেট সংস্থাগুলি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাহুল বাজাজকে বিজেপি সাংসদের পরামর্শ, 'এটাই নতুন ভারত। এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।'  এমনকী,নতুন ভারতের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপায়ও বাতলে দিয়েছিলেন গেরুয়াশিবিরের সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর।  

রাহুল বাজারের মন্তব্য়ের বিরোধিতা করাই শুধু নয়, শুক্রবার মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের মোদী সরকারের প্রশংসাও করলেন শিল্পপতি ও 'সঞ্জীব গোয়েনকা। সিইএসএসি-এর মালিকের মতে, 'মোদী সরকার  যেভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে যাচ্ছে, আগে কোনও সরকার তা করেনি। দেশের পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে মোদী সরকার বদ্ধপরিকর। এই প্রথম দেশের সর্বস্তরে একটি বদল চোখে পড়ছে।'  কিন্তু তাহলে মোদী জমানায় দেশে বেসরকারি সংস্থার বিনিয়োগের হার এত কম কেন? সঞ্জীব গোয়েঙ্কার ব্যাখ্যা,  'গত চার-পাঁচ ধরে ভারতের বাজারে লাগাতার বিনিয়োগ করে গিয়েছে বেসরকারি সংস্থাগুলি।  আশা ছিল, জিডিপি-এর হার ৯ থেকে ১০ শতাংশ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ফলে যতটা বিনিয়োগ এসেছিল, বাজারে ততটা চাহিদা  তৈরি হয়নি। তাই নতুন করে আর কোনও সংস্থাই ভারতে বিনিয়োগ করতে চাইছে না।' আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশের আর্থিক হাল ফিরবে। ফের নতুন করে বিনিয়োগ করতে শুরু করবে বেসরকারি সংস্থাগুলি। অন্তত তেমনই মত শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েন্দার।