করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কে কাঁপছে গোটা পৃথিবী। এখনও পর্যন্ত ১২৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। এই মহামারীর আগে কখনও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখেনি পৃথিবী। কিন্তু, যতটা ভয় ছড়িয়েছে ততটাই কী মারাত্বক এই ভাইরাস ঘটিত রোগ? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর দেওয়া তথ্য কিন্তু তা বলছে না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ-কে বিশ্বব্যপী মহামারী বা অতিমারী হিসাবে ঘোষণা করার সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল এই রোগের সংক্রমণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি হলেও মারণ ক্ষমতা ততটা মারাত্মক নয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে যত মানুষ কোভিড-১৯'এ আক্রান্ত হয়েছেন, তারমধ্যে মাত্র ৩.৪ শতাংশ মানুষের মৃত্য়ু হয়েছে। তবে প্রথমে চিনে যখন এই রোগ ছড়িয়েছিল, তার থেকে বর্তমানে মৃত্যুর হার অনেকটাই বেড়েছে। সেই সময় চিন জানিয়েছিল আক্রান্তের মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ মানুষের মৃত্য়ু হয়েছে।

এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাস অভিযোজিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে দুই ধরণের ডিএনএ স্ট্র্যান্ড-এর খোঁজ পেয়েছেন। প্রথম ধরণ অনেকটাই কম আগ্রাসী, কিন্তু, পরের ধরণের ভাইরাস খুবই আগ্রাসী। কিন্তু তারপরেও এই রোগের মারণ ক্ষমতা আমাদের অনেক চেনা ভাইরাসের থেকেই কম বলে জানিয়েছে হু এবং সিডিসি।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন পৃথিবীতে টিবি, নিউমোনিয়া, এইচআইভি, ম্য়ালেরিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, মেনিনজাইটিস, হুপিং কাশি, এমনকী যে মরসুমী জ্বর হয় - তাতেও একেকদিনে করোনাভাইরাসের থেকে অনেরক গুণ বেশি মানুষেরর মৃত্যু হয়ে থাকে। তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত করোনার হানায় প্রতিদিন গড়ে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে মরসুমী জ্বরেই মারা যান প্রতিদিন ১০২৭ জন।

সাম্প্রতিককালে যে যে সংক্রামক ব্যধী জনমানসে ভীতি তৈরি করেছিল, তাদের মধ্যে অবশ্য মারণ ক্ষমতায় এগিয়ে আছে করোনা। যেমন ডেঙ্গুতে গড়ে প্রতচিদিন মারা যান ৫০ জন মানুষ। আর ইবোলা, সার্স ও মার্স ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্য়ুর দৈনিক হার যথাক্রমে ৫.৩, ৩.২ ও ২.৩ জন।

কিন্তু, তারপরেও বলতে হবে করোনাভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ তথ্য বলছে আমাদের অনেকদিনের চেনা সংক্রামক রোগগুলি, যেমন টিবি, হেপাটাইটিস বি, নিউমোনিয়া-র মারণক্ষমতার ধারেকাছে নেই করোনাভাইরাস। তবে তাই বলে একে অবজ্ঞা করাটাও বোকামির কাজ।