তীরে এসে তরী ডুবেছে। অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়েছে সফলতার মুখ দেখা। তবে তাতে দমানো যাবে না ইসরোকে। শনিবার নিজেই সেই কথা জানালেন ভারতীয় গবেষণা সংস্থার চেয়ারম্যান কে শিবন। এদিন তিনি বলেন, ফের চন্দ্র অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরো। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে-এর অ্যাকশন প্ল্যান। 

থেমে থাকলে চলবে না । নতুন করে শুরু করতে হবে। তাই চন্দ্রযান ৩ -এর প্রস্তুতি শুরু করে দিল ইসরো। কে শিবন জানিয়ে দিলেন, এবার চাঁদের মাটিতে সফলভাবে অবতরণ করে দেখাবে ভারত।  ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা চাঁদে কীভাবে সফলভাবে পা রাখা যায় তা নিয়ে গবেষণা করছেন। ইসরোর সাম্প্রতিক সবথেকে বড় উৎক্ষেপণ ছিল চন্দ্রয়ান ২। যেখানে চাঁদে নামলেও ল্যান্ডার বিক্রম ইসরোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে অবতরণ হলেও সফল অবতরণ করাতে পারেনি ইসরো।

চলতি বছরের ২২ জুলাই ইসরোর চন্দ্রযান মিশন শুরু হয় । অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে চন্দ্রযানকে নিয়ে আকাশপথে পাড়ি দেয়  জিওসিঙ্ক্রোনাস রকেট। ২৩ দিন পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে ১৪ অগাস্ট ভোর রাতে চন্দ্রযান লাফ দেয় চাঁদের দিকে। ২৫ দিন চাঁদের চারিদিকে পাক খেয়ে অবশেষে অবতরণ। ৬ সেপ্টেম্বর মাঝরাতে চাঁদের নামতে গিয়েই বিপত্তি গটে। হঠাৎ হারিয়ে  যায় বিক্রম। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ২.১ কিলোমিটার দূরে। বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে যায় দেশবাসী। স্বয়ং স্পেস সেন্টারে সেদিন উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কে শিবনের চোখে জল দেখে তাঁকে ভরসা যোগান প্রধানমন্ত্রী। 

 শনিবার শিবন জানিয়েছেন, চন্দ্রযানের পাশাপাশি সোলার মিশন, এবং গগণযান প্রকল্পেও সমানভাবে এগিয়ে চলেছে ইসরো। তবে চন্দ্রযান ২ এর অবতরণ ঠিক না হলেও অরবিটার এখনও সফলভাবে কাজ করছে। যা থেকে বেশকিছু অতি মূল্যবান তথ্য পাওয়া গেছে। যা আগামীদিনে চাঁদের মাটিতে সফল ল্যান্ডিংয়ে সহযোগিতা করবে।