ফের গো-রক্ষার নামে তাণ্ডবের সাক্ষী হল ভারত। এবার ঘটনা জম্মু ও কাশ্মীরে। উপত্যকার রেয়াসি জেলায় গেরি গাব্বার নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামে গণপিটুনিতে গুরুতর জখম হল ৪৮ বছরের এক পশুপালক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর ছেলে কিছু গরুকে তাঁদের চারণভূমি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।

জানা গিয়েছে ঘটনার সূত্রপাত কয়েকটা দিন আগে। হঠাতই গেরি গাব্বার বাসিন্দা মহম্মদ আসগর-এর জমিতে কিছু গরুর আগমন ঘটেছিল। তারা আসগরের ক্ষেতের ফসল খেয়ে ক্ষতি করা শুরু করেছিল। তাই আসগরের ১৬ বছরের কিশোর পুত্র গরুগুলিকে মাঠ থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপরই তার বিরুদ্ধে গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দাবি করে, একটি গরুর পিঠে আঘাত লেগেছে। তাই আসগরের বিচার হবে। এর জন্য গ্রাম-প্রধান সালিশী সভা বসান।

মালিক আব্বাস নামে স্থানীয় এক মানবাধিকার কর্মীর দাবি সেখানে অবশ্য বিচার কিছু হয়নি। আসগর ও তাঁর খুড়তুতো ভাই জাভেদ সভায় উপস্থিত হওয়া মাত্রই বহু মানুষ গিরে ধরে তাঁকে পেটাতে থাকে। আসগরের পরিবারের দাবি অন্তত ৬০ জন মিলে খালি হাতে লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক প্রহার করে। এই মুহূর্তে তাঁর শারীরিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে যাচাই না করা গেলেও, এই ঘটনার ভিডিও বলে দাবি করা একটি ভয়াবহ ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। জম্মুর প্রভাবশালী উপজাতি নেতা গফতার আহমদ, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির  বিশিষ্ট নেতা নঈম আখতার প্রমুখ ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। ভিডিওটিতে এক ব্যক্তিকে মাথা এবং দেহে প্রবল আঘাত করতে দেখা যাচ্ছে একদল লোককে। তাদের মুখে রয়েছে, 'দেশ কে গদ্দারোঁ কো…গোলি মারো সালে কো'র মতো আপত্তিকর স্লোগান-ও। একজন পুলিশকর্মী এসে জনতাকে নিরস্ত্র করেন বটে, তবে ততক্ষনে প্রহৃত ব্যক্তির শার্ট ছিঁড়ে গিয়েছে, আঘাতে, ব্যথায়, সে নেতিয়ে পড়েছে।

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, পুলিশ প্রথমে এই ঘটনার মামলা নিতে চায়নি। তারা জেদাজেদি করায় ও উচ্চস্তরের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরই রিয়াসি জেলা পুলিশ এই ঘটনার বিষয়ে একটি এফআইআর দায়ের করেছে। তবে সেই এফআইআর দায়েরের পরই জেলা পুলিশ আসগরের কিশোর পুত্রের বিরুদ্ধেও 'একটি সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত' করার অভিযোগে মামলা করেছে।

প্রশ্ন উঠছে ঘটনার পরই কেন আসগরের পুত্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি? এখন ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর, আসগরের গণপ্রহারের মামলা দায়ের হওয়ার পর কেন ওই কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা করল পুলিশ?