আগামী মাসের শুরুতেই কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে পঞ্চায়েত ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হল। মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক শৈলেন্দ্র কুমার।

প্রথমে ঠিক হয়েছিল আগামী ৫ মার্চ শুরু হবে জম্ম-কাশ্মীরের পঞ্চায়েত ভোট। ১২,৫০০ বোশি আসনে আট দফায় চলবে এই ভোটগ্রহণ। ভোটপর্ব শেষ হবে আগামী ২০ মার্চ। 

আরও পড়ুন: কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সেনার অভিযান, এনকাউন্টারে নিকেশ হল ৩ জঙ্গি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার থেকে কমিশনের কাছে রিপোর্ট আসার পরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আর্জি মেনে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন পিছিয়ে দিয়েছে কমিশন। সূত্রের খবর, রিপোর্টে জম্মু-কাশ্মীরে ভোটের সময় নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। 

"নিরাপত্তার কারণে তিন সপ্তাহের জন্য পঞ্চায়েত নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে", জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক শৈলেন্দ্র কুমার। তবে নির্বাচনে নতুন দিনক্ষণ এখনও কমিশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে ৫,৭,৯,১২,১৪ ,১৬, ১৮,২০ মার্চ কাশ্মীরে আট দফায় পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। প্রথম দুই পর্যায়ের ভোটের জন্য বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিল  নির্বাচন কমিশন। যদিও এই নির্বাচন বয়কট করেছিল কাশ্মীরের দুই বড় দল পি়ডিপি এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স।

আরও পড়ুন: ভারত সফরের আগে উচ্ছাস বাঁধ মানছে না ট্রাম্পের, তবে সুর কাটছে বাণিজ্য চুক্তিতে 

এদিকে ভোটের দিন পিছিয়ে দেওয়ার আগে মঙ্গলবার জম্মু-কাশ্মীরের সব রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক শৈলেন্দ্র কুমার। বৈঠকে  ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা জানিয়ে দেন  তাদের নেতানেত্রীদের গৃহবন্দি দষা ঘুচলেই এই পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশ নেবেন। 

এর আগে ২০১৮ সালে জম্ম-কাশ্মীরে শেষবার পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত বছর অগস্টে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেয় ভারত সরকার। রাজ্যকে ভাগ করে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। তারপর থেকেই মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লা এবং ফারুক আবদুল্লার মত উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনই কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম রাজনৈতির পরীক্ষা বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।