উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক বিপর্যের প্রায় ৬০ ঘণ্টা পরে তপোবন টানেলের ভিতরে প্রবেশ করতে পারল ভারত তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনী ও রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। কঠোর পরিশ্রমের পর  একটি দল খুব সাবধানতার সঙ্গে সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবেশ করে। অনুমান করা হচ্ছে প্রায় আড়াই কিলোমিটার  দৈর্ঘ্যের এই টানেলে ২৫-৩০ জনের একটি দল আটকে রয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা উচ্চ দৃশ্যমানতার জ্যাকেট আর হলুদ হার্ডহাট পরে সুড়ঙ্গে প্রবেশ করছে। তুষার ধস আর প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুড়ঙ্গটি প্রায় চাপা পড়ে গিয়েছিল। 

সুড়ঙ্গের ভিতর প্রবল অন্ধকার। মশাল, হালকা আলো ও মাইনারের ল্যাম্পগুলি নিয়ে সুড়ঙ্গের ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। রাস্তায় পড়ে থাকা বোল্ডার ও কংক্রীটের বড় অংশগুলিতে তারা সরিয়ে দেওয়া চেষ্টা করছে যন্ত্রের সাহায্যে। ইউ আকারের টানেলটির প্রস্ত ১২-১৫ব ফুট। উদ্ধারকারী দলটি সুড়ঙ্গে দুইটি ভাগে ভাগ হয়ে আটকে পড়া লোকদের সনাক্ত করবে। আইটিবিপির মুখপাত্র জানিয়েছেন গোটা রাত ধরেই সুড়ঙ্গ পরিষ্কার করার কাজ অব্যাহত ছিল। টানেলের প্রবশ পথে প্রায় ১২০ মিটার জায়গায় থেকে নুড়ি পথর সরানো হয়েছে। তবে এই কাজ খুব একটা সহজ ছিল না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন একবার পরিষ্কার করার পর আরও একবার নুড়ি পাথর এমনকি জল এসে ভরাট করে দিচ্ছিল সুড়ঙ্গের অভিমুখ। তবে তাঁরা দ্রুতগতিতে কাজটি করা হয়েছে। টানেলটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বলেও সূত্রের খবর। কারণ টানেলের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে জল পড়ার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। তাই উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা একে অপরকেই সতর্ক করছিলেন ভিতরে ঢোকার সময়। 

একটি সূত্র বলছে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত টানেলটি প১৮০ মিটারের মধ্যে মাত্র ৮০ মিটার পর্যন্ত পরিষ্কার করা গিয়েছিল। এখনও ৬০ মিটার পথ বাকি রয়েছে। আইটিবিপির পক্ষ থেকে জানান হয়েছে এখনও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা টানেলে আটকে পড়া লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে আটকে পড়াদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার বিষয় তারা আশাবাদী। এখনই তারা হার মানতে রাজি নয় বলেও জানান হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যের কারণে এখনও পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েথে ১৭০ জন।