মিথ্যা বলছেন বিচারপতি এম এস লিবারহান। বাবরি মামলার রায় নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করলেন ভারতের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সত্যপাল জৈন। এদিন টুইট করে জৈন লেখেন, প্রিন্ট মিডিয়ার কাছে, 'বাবরি মসজিদ ধ্বংসের স্পষ্ট দায় নিয়েছিলেন উমা ভারতী' বলে যে মন্তব্য করেছেন বিচারপতি লিবারহান, তা সত্য নয়।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মনমোহন সিং লিবারহান-এর নেতৃত্বে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। প্রথমে তিনমাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হলেও পরে ৪৮ বার তাকর মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর কাছে সেই তদন্তের রিপোর্ট পেশ করেছিলেন বিচারপতি লিবারহান। সেই রিপোর্টে কিন্তু বাবরি ধ্বংসের পিছনে বিজেপি, আরএসএস এবং ভিএইচপি নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দোষারোপ করা হয়েছল।

বুধবার বিশেষ সিবিআই আদালতের রায়ে বলা হয়,বাবরি ধ্বংসের পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র ছিল না। ৩২ জন অভিযুক্তরকেই বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। বিচারপতি লিবারহান এই রায়ের পর বলেছিলেন, তিনি এখনও মনে করেন, বাবরি ধ্বংসের পিছনে অবশ্যই ষড়যন্ত্র ছিল। সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁর মনে আছে বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী স্পষ্টভাবে বাবরি ধ্বংসের দায় নিয়েছিলেন। 

এই বিষয়েই এদিন বর্ষিয়ান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সত্যপাল জৈন। তিনি জানান,  কে লিবারহান কমিশনের সামনে লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলী মনোহর জোশী এবং উমা ভারতী-র আইনি পরামর্শদাতা হিসাবে তিনি ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিবারহান কমিশনের লিপিবদ্ধ করা প্রতিটি বিবৃতির সাক্ষী ছিলেন। কাজেই কমিশনের বদ্ধ ঘরে কী ঘটেছিল, তিনি সব জানেন। উমা ভারতী কমিশনের সামনে কখনই বাবরি ধ্বংসের দায়ভার গ্রহণ করেননি বা এই ধরণের কোনও বিবৃতি দেননি বলে দাবি করেছেন জৈন।

সলিসিটর জেনারেলের দাবি উমা ভারতী প্রকৃতপক্ষে কমিশনকে বলেছিলেন, উন্মত্ত জনতাকে মসজিদটি না ভাঙার জন্য রাজি করাতে গিয়েছিলেন তিনি। লালকৃষ্ণ আদবানিই, তাকে এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলেও কমিশনকে জানিয়েছিলেন উমা, এমনটাই দাবি করেছেন সত্যেন্দ্র জৈন। কিন্তু, কর-সেবকরা উমা ভারতীর কথা শোনেনি। তাঁকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেছিল, এমনকী আবার সেখানে ফিরে না আসার জন্যও সতর্ক করেছিল।

শুধু মুখের কথায় থামেননি সলিসিটর জেনারেল। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ হিসাবে টুইটের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন বিচারপতি লিবারহান নিজেরই তৈরি লিবারহান অযোধ্যা তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের একটি অংশ। সেইসঙ্গে বলেঝছে, বিচারপতি লিবারহান এখন তাঁরই পেশ করা প্রতিবেদনের বিপরীতে কথা বলছেন।