কর্নাটক, মহারাষ্ট্রের পর মধ্যপ্রদেশেও ক্রমশই জমে উঠছে রাজনৈতিক নাটক।  জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকার-এর পতনটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা মনে করা হচ্ছিল। এমনকী কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নেতা অধীর চৌধুরীও বলেছিলেন তারা সরকার রাখতে পারবেন না। কিন্তু, মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতারা কখনও মনোবল হারাননি। সেই ধারা মেনেই, শুক্রবার রাজ্যপাল লালজি ট্যান্ডন-এর সঙ্গে দেখা করে আস্থা ভোট আয়োজনের দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথই।  

এদিন ভোপালে মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ রাজভবনে এসে রাজ্যপাল লালজি ট্যান্ডনের সঙ্গে দেখা করেন। রাজ্যপালকে একটি চিঠি দিয়ে তিনি আস্থা ভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। চিঠিতে কমলনাথ বলেছেন আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে স্পিকার যে দিন ঠিক করবেন, সেই দিনই আস্থাভোটে সরকাররে শক্তি পরীক্ষা দিতে তিনি রাজি। তবে তার আগে 'বেঙ্গালুরুতে বন্দী থাকা বিধায়কদের মুক্তি' নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যপালকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বিজেপির বিরুদ্ধে বিধায়কদের নিয়ে ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সাক্ষাতের পর রাজভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কমলনাথ। তিনি জানান, আস্থাভোটে যেতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু, বিজেপি-র হাতে বিধায়করা যতক্ষণ বন্দী থাকছেন, ততক্ষণ আস্থাভোটে যাওয়া যাবে না। বিধায়করা ফিরলে তবেই আস্থা ভোট হবে। এদিন, করোনাভাইরাস-এর হুমকি-তে আপাতত বিধানসভা অধিবেশন স্থগিত রাখার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।  

এর আগে, মধ্যপ্রদেশের একাধিক কংগ্রেস নেতা দাবি করেছেন, তাঁদের সরকারের কোনও বিপদ নেই। মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ২৩০। এরমধ্যে দুটি আসন আপাতত ফাঁকা। ২২ কংগ্রেস বিধায়ক না থাকলে শক্তি আরও কমে দাঁড়াচ্ছে  ২০৬-এ। অর্থাৎ সেই ক্ষেত্রে সরকার গড়ার ম্যাজিক সংখ্যা হচ্ছে ১০৩। ওই ২২ বিধায়ককে বাদ দিলে কংগ্রেসের হাতে থাকছে ৯৩টি আসন। এছাড়া ২ বসপা, ১ সপা ও তিনজন নির্দল প্রার্থীর সমর্থন আছে তাদের পক্ষে। অন্যদিকে বিদেপির হাতে রয়েছে ১০৭টি আসন। কাজেই সবটাই এখন নির্ভর করছে কংগ্রেস-এর ওই ২২ 'বিদ্রোহী' বা 'বন্দী' বিধায়কদের উপরই।