গত বৃহস্পতিবার থেকে আস্থাভোট নিয়ে নাটকের পর মঙ্গলবার সন্ধায় কর্নাটক বিধানসৌধে অনুষ্ঠিত হল আস্থা ভোট। আর তাতে ১০৫-৯৯ ভোটে পরাজিত হয়ে পতন ঘটল জেডিএস-কংগ্রেস জোট সরকারের। এরপরই কর্নাটকের বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা বিএস ইয়েদুয়াপ্পা জানালেন তাঁর সরকার কৃষকদের সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। একই সঙ্গে 'ঘোড়া'দের অর্থাৎ বিদ্রোহী কংগ্রেস, জেডিএস ও নির্দল বিদায়কদের নিয়েও কর্নাটক বিজেপির পক্ষ থেকে করা হল বড় ঘোষণা।

১৪ মাস আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালের মে মাসে কর্নাটক বিধানসভায় ১০৫টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। আর কংগ্রেস, জেডিএস পেয়েছিল যথাক্রমে ৭৯ ও ৩৭টি আসন। সাত তাড়াতাড়ি ইয়েদুয়াপ্পাকে সরকার গড়তে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল বাজুভাই ভালা। কিন্তু দুদিন যেতে না যেতেই কংগ্রেস-জেডিএস জোট গড়ে আস্থাভোটে পরাজিত করেছিল ইয়েদুয়াপ্পা সরকারকে। তারপর কুমারস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী করে সরকার গঠন করে জোট। মুখ্যমন্ত্রী হয়েই কুমারস্বামী কৃষকদের ঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তারপর এদিন আরও এক আস্থাভোটে কিন্তু বাজিমাত করলেন ইয়েদুয়াপ্পাই। জয় স্পষ্ট হতেই ইয়েদুয়াপ্পা-সহ বিজেপি সাংসদরা বিধানসৌধের মধ্যেই  'ভিকট্রি সাইন' দেখান। তারপর বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইয়েদুয়াপ্পাও প্রথমেই বললেন সেই কৃষকদের কথাই। এদিনের জয়কে তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের জয়। তাঁর দাবি, গত ১৪ মাস ধরে জোট সরকার জনগণের বিরক্তির কারণ হয়েছিল। স্থগিত ছিল উন্নয়নের কাজ। জানিয়েছেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় বসার পর থেকে কৃষকদেরই সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। তাঁর সরকার কৃষকদের সরকারই হতে চলেছে, এমন দাবিও করেছেন।

এদিকে যে ১৩ জন কংগ্রেস, ৩ জন জনতা দল (সেক্যুলার) এবং দুই নির্দল বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন, তারা এবার গেরুয়া শিবিরে ভিড়বেন কিনা তাই নিয়ে দারুণ কৌতূহল রয়েছে। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা জগদীশ শেত্তার বলেছেন, এই বিদ্রোহী বিদায়কদের ইস্তফা এখনও গ্রহণ করেননি বিধানসৌধের স্পিকার। ইস্তফার বিষয়টি পাকা হয়ে গেলে তাদেরকেই ঠিক করতে হবে তাঁরা পদ্ম-পতাকা হাতে তুলে নেবেন কিনা।

তবে তাঁরা বিজেপিকে সমর্থন না করলেও বিজেপির যে খুব একটা অসুবিধা হবে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন শেত্তার। জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁদের হাতে ১০৫জন বিধায়কের সমর্থন আছে। বিজেপিই সংখ্যাগরীষ্ঠ দল। কাজেই স্থিতিশীল সরকার গঠনে 'ঘোড়া'দের সমর্থন না পেলেও চলবে।