ভারত এবং চিনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ অনেকদিনের। গত দুই সপ্তাহ ধরে সেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ভারতের দাবি চিন সেনা অমীমাংসিত সীমান্ত লঙ্ঘন করে ভারতীয় টহলদার বাহিনীকে বাধা দিয়েছে। এই নিয়ে তীব্র উত্তেজনার আঁচ ছড়িয়েছে সীমান্তে। এর শুরু ওই অমীমাংসিত এলাকায় ভারতের একটি নির্মাণকাজ নিয়ে, যা নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিল চিন। ক্রমবর্ধমান উত্তজনার মধ্যে ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে 'দেশের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা হবে'। 'ভারতীয় ভূখণ্ডে'র অভ্যন্তরে সীমান্তের কাথে ওই রাস্তা নির্মাণ অব্যাহত থাকবে।

দুই দেশই বিষয়টির দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলেছে। উভয় পক্ষেরই বক্তব্য যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পদ নষ্ট করার থেকে অর্থনৈতিক সুরক্ষায় জোর দেওয়াটা বেশি দরকারি। বিশেষ করে এই কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে। তবে, সীমান্ত এলাকায় সামরিক কার্যকলাপ-ও বাড়িয়েছে দুই পক্ষই। লেহ উপত্যকায় অবস্থিত তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়নকে সীমান্তের কাছে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে ভারত। অন্যদিকে বেজিংয়ে চিনা সংসদ অধিবেশন চলাকালীন পিপলস লিবারেশন আর্মিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন সেই দেশের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং।

এই অবস্থায় দেখে নেওয়া যাক সামরিক শক্তিতে দুই দেশের মধ্যে কারা আছে এগিয়ে। যদি সত্যি সত্যি যুদ্ধ বাধে, তাহলে কাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি...

দেখা যাচ্ছে এই মুহূর্তে চিনে সক্রিয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা ২০ লক্ষের বেশি। এই বিষয়ে এগিয়ে আছে ভারত। ভারতের সেনা সদস্যের মোট সংখ্যা ৩৪ লক্ষের বেশি। তবে চিনের প্রতিরক্ষা বাজেট ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ৪ গুণ বেশি।

ভারতের হাতে ট্যাঙ্ক যেখানে রয়েছে মাত্র ৪,১০০টি সেখানে চিনের ট্যাঙ্কের সংখ্যা ১৩,০০০-এর বেশি। চিনের সাঁজোয়া গাড়ির সংখ্যা ৪০,০০০। সেখানে ভারতের সাঁজোয়া গাড়ি রয়েছে মাত্র ২৮০০। একইভাবে, এটির 2050 বনাম ভারতের 266-র দশগুণ রকেট প্রজেক্টর রয়েছে।

নৌবাহিনীর ক্ষমতা দেখতে গেলে ভারতের হাতে সব মিলিয়ে সামরিক জাহাজ রয়েছে ২৯৫টি। চিনের মোট নৌ সম্পদের সংখ্যা ৭১৪। সাবমেরিনেও এগিয়ে চিন। ভারতের যেখানে ডুবোজাহাজের সংখ্যা মাত্র ১৬টি সেখানে চিনের হাতে রয়েছে ৭৬টি। চিনের ডেস্ট্রয়ার জাহাজেরক সংখাও ভারতের ৩ গুণ (ভারতের ১১টি, চিনের ৩৩টি)।

আকাশে শক্তির ক্ষেত্রেও ভারতের থেকে অনেকটাই এগিয়ে চিন। এই ক্ষেত্রে ভারতের থেকে মোট বিমানের সংখ্যায় অনেকটাই এগিয়ে চিন। ভারতের ২০০০টি বিমানের তুলনায় চিনের রয়েছে ৩০০০-এর বেশি বিমান। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ইন্টারসেপ্টর বিমান এবং হামলাকারী বিমান - দুই ধরনের বিমানের সংখ্যাতেই অনেক এগিয়ে রয়েছে চিন। আর সামরিক বিমান ঘাঁটির সংখ্যাও ভারত (৩৪৬)-এর তুলনায় চিন (৫০৭)-এর অনেক বেশি।