স্বাভাবিক পরিস্থিতির থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছে লাদাখের প্যাংগং লেক এলাকা। এখনও পর্যন্ত সেখানে রীতিমত তৎপর সেনা। সেনা মোয়াতেনের পাশাপাশি নির্মাণ কাজও চলছে। এমনই তথ্য উঠে এসেছে সদ্যো হাতে পাওয়া স্যাটেলাইট ইমেজে। হাইরেজিউলিশন এই স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যাচ্ছে প্যাংগং লেকের চার ও পাঁচ নম্বর এলাকায় তৎপরতা বেড়েছে চিনা সেনার। 

যদিও বুধবার চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়েছিল লাদাখ সীমান্তের উত্তাপ কমাতে সেনা সরানোর কাজ প্রায় সারা হয়ে গেছে। ভারত চিন উভয় দেশই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমা রেখা থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু প্রথম থেকেই ভারত জানিয়ে আসছিল বেশ কয়েকটি সীমান্তে এখনও পর্যন্ত মোতায়েন রয়েছে চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা। 

চিনা বিদেশ মন্ত্রকের দাবির সঙ্গে স্যাটেলাইট ইমেজে পাওয়া তথ্যের মিল খুবই কম। কারণ প্যাংগং লেক এলাকায় চিনা সেনার মোতায়ন কখনই চুক্তি মাফিক নয়। তবে বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই চিনা সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যা চিনা বিদেশ মন্ত্রকের দাবির সঙ্গে মিলে যায়। 

নতুন পাওয়া স্যাটেলাইট ইমেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্যাংগং-এর পাঁচ ও ছয় নম্বর ফিঙ্গার এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে চিনা সেনা। বেশ কয়েকটি নতুন নির্মাণ কাজও হয়েছে। বেশ কয়েকটি তাঁবু তৈরি হয়েছে। আনা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তি টহলদারি নৌকা। সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে বেশ কয়েকটি। পুরনো নির্মাণের পাশাপাশি নতুন কয়েকটি তাঁবুও তৈরি করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্যও বেশ কিছু সরঞ্জাম আনা হয়েছে। সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বসানো হয়েছে রেডারও।ভাসমান ডকও তৈরি হয়েছে।  

যদিও ভারতের সেনা বাহিনী সূত্রে খবর গালওয়ান, হটস্প্রিং সব বেশ রয়েকটি এলাকা থেকে সেনা সরাতে রাজি হলেও প্যাংগং লেক নিয়ে প্রথম থেকেই অনড় মনোভাব দেখিয়ে আসছে। 

তবে নতুন উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে গালওয়ান নদী ও উপত্যাকার পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি স্বাভাবিক। বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে চিনা তাঁবু, সমরসজ্জা। 

তবে প্যাংগং এলাকায় চিনা প্রস্তুতি কিছুটা হলেও উদ্বেগ বাড়িয়ে বলেও দাবি করা হয়েছে ভারতীয় সেনা বাহিনী সূত্রে। যদিও পঞ্চম দফার সামরিক বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। আগামী বৈঠকে প্যাংগং লেকের প্রসঙ্গ উঠতে পারে বলেই মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।