দেশে করোনা সংকট ক্রমেই বাড়ছে। তারমধ্যে ঘূর্ণিঝড় আমফান ধ্বংসলীলা চালিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সহ পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে। আর এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের বিপদ আরও বাড়াতে হাজির হয়েছে পঙ্গপালের দল। ইতিমধ্যে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ হয় এই পতঙ্গের দল তাণ্ডব চালাতে হাজির হয়েছে মহারাষ্ট্রে। এমনিতেই করোনা সংক্রমণ নিয়ে নাজেহাল মহারাষ্ট্র। দেশের মোট আক্রান্তের এক তৃতীয়াংশেরই বেশি এই রাজ্যের বাসিন্দা। তার মধ্যে মহারাষ্ট্রের কৃষকদের মাথায় হাত ফেলে দিয়েছে পঙ্গপাল। কারণ, পঙ্গপালের দল ক্ষেতের পর ক্ষেতে অবলীলায় ধ্বংস করতে পারে।

পাকিস্তান থেকে গত ১১ এপ্রিল পঙ্গপালের দল ,সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকেছে রাজস্থানে। ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের বিস্তির্ণ কৃষিক্ষেত্রের উপর হামলা চালিয়েছে পঙ্গপাল। এবার পালা মহারাষ্ট্রের। আশঙ্কা করা হচ্ছে  বিদর্ভ সহ ৫ টি জেলাতে হামলা চালাতে পারে পঙ্গপালের দল। এই পতঙ্গের দলকে নিয়ে তাই অশনি সংকেত দেখছে উদ্ধব ঠাকরের সরকার। পঙ্গপাল নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে জেলাগুলিতে। ক্ষেতে ও ফসলের মধ্যে রাসায়নিক স্প্রে করার জন্য একটি বিশেষ দলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

এদিকে  ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পঙ্গপালের হামলা দেশের খাদ্য সুরক্ষার ওপর বিরাট  প্রভাব ফেলতে পারে।  রাজস্থানের ৩৩টি জেলার মধ্যে ১৬টিতে হামলা করেছে পঙ্গপালের ঝাঁক।  মধ্যপ্রদেশ জানিয়েছে, এমন পঙ্গপালের দেখা গত ২৭ বছরে মেলেনি। প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পঞ্জাব আর গুজরাতেও হামলা চালাতে পারে পঙ্গপাল।  শোনা যাচ্ছে, রাজস্থান-হরিয়ানা সীমানা ধরে পঙ্গপালের ঝাঁক রাজধানী দিল্লিতেও ঢুকে পড়তে পারে। 

পঙ্গপালের  হামলা এর আগেও হয়েছে  দেশে। গত বছর ডিসেম্বর থেকে এই বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারতের কৃষিক্ষেত্রের উপর হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান থেকে আসা পঙ্গপালেরা। এবারেরটা তাদের দ্বিতীয় আক্রমণ। পঙ্গপাল সামলাতে তাই কীটনাশক স্প্রে করা শুরু করেছে রাজ্যগুলি।

এদিকে ক্ষুদ্র পঙ্গপালের হানায় ভারত যখন নাস্তানাবুদ তখন আফ্রিকা থেকে আরও একটি পঙ্গপাল বাহিনীর ছুটে আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই দলটিও ভারতে ঢুকে হামলা চালাতে পারে। 

রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, পঙ্গপালের বাহিনীটি ভারত ও পাকিস্তানের দিকে ধেয়ে আসছে। এখানে তারা আরও কয়েকটি ঝাঁকের সঙ্গে একত্রিত হয়ে হামলে পড়বে।