এমনিতেই করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দিশেহারা অবস্থা দেশে। দীর্ঘদিন চলা লকডাউনের কারণে অর্থনীতি খাদের কিনারায়। এরমধ্যেই কৃষকদের চিন্তা বাড়াতে হাজির হয়েছে পঙ্গপাল বাহিনী। ইতিমধ্যে রাজস্থান, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হিরয়ানা, পঞ্জাব সহ উত্তর ও মধ্যভারতের একাধিক রাজ্য পঙ্গপাল হামলার শিকার হয়েছে। 

 

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই পতঙ্গদের যদি আটকানো না যায়, তবে দেশের শস্যভান্ডারে টান পড়তে পারে। এই পতঙ্গরা সংখ্যায় প্রচুর হয়ে হামলা করায় কোনও বড় শস্য খেতকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে ফাকা করে দিতে পারে। গত ২৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পঙ্গপালের হানার মধ্যে রয়েছে দেশ। চলতি মাসের শুরুতেই পাকিস্তান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকেছে এই পঙ্গপাল বাহিনী। তবে কেবল উত্তরভারত নয় এই পতঙ্গের হানা থেকে এবার দক্ষিণ ভারতের কৃষকদেরও সতর্ক থাকতে বলছে ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন।

আরও পড়ুন: উত্তর ভারতকে ছাড়খাড় করে ঝাড়খণ্ড অবদি পৌঁছল পঙ্গপাল বাহিনী, বাংলাতেও এবার হানার আশঙ্কা

পঙ্গপাল ইতিমধ্যেই দেশের ৯০ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি করে দিয়েছে, যার অধিকাংশই পশ্চিম ও পূর্ব রাজস্থানে আবস্থিত। ইতিমধ্যে এই পতঙ্গদের হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে দিল্লি, হরিয়ানা, হিমাচলপ্রদেশ, তেলেঙ্গনা ও কর্ণাটকে। রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্তক করে দেওয়া হয়েছে, এই পতঙ্গ আগামী সপ্তাহগুলিতে বিহার, ওড়িশার মতো দেশের পূর্বদিকের রাজ্যগুলিতে পৌঁছে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: লাখ লাখ পঙ্গপাল এবার এগোচ্ছে দেশের রাজধানী আক্রমণে, শত্রু বিনাশে ময়দানে নামল ড্রোন

এই অবস্থায় কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও পঙ্গপালের ঝাণক সামলাতে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশই একযোগে কাজ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রক থেকে পঙ্গপাল নিধনে পাকিস্তানের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এরআগেও পঙ্গপাল হানা রুখতে দুই দেশকে একসঙ্গে  ময়দানে নামতে দেখা গিয়েছে।