সোমবার লোকসভায় ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে পাস হল ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল। বৈদেশিক তহবিল প্রাপ্তির বিষয়ে সংশোধনী এনে তৈরি করা এই বিলটি আগেই রাজ্যসভায় অনুমোদন পেয়েছিল। কংগ্রেস, তৃণমূল, এনসিপি-সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল এই বিলের বিরোধিতা করে। তবে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্কের জবাব দিয়ে বলেন, এই সংশোধনীগুলি এনজিও-দের বিরোধী নয় এবং এই বিদেশী তহবিল বন্ধও করে দিচ্ছে না সরকার।

একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের উপরে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার বিদেশি তহবিল গ্রহণ করা নিয়ন্ত্রণ করাই এই বিলের লক্ষ্য। বিলের খসড়া অনুযায়ী নির্বাচনের প্রার্থী, কোনও সংবাদপত্রের সম্পাদক বা প্রকাশক, বিচারক, সরকারী কর্মচারী, যে কোনও আইনসভার সদস্য, রাজনৈতিক দলগুলি বিদেশী তহবিল গ্রহণ করতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে। বিদেশি অবদান গ্রহণের জন্য নিবন্ধিত না হলে বা বিদেশী অবদান পাওয়ার জন্য আগে থেকে অনুমতি না নিলে, অন্য কোনও ব্যক্তিকে বিদেশি তহবিল হস্তান্তরও করা যাবে না। এই তালিকায় নাম নিবন্ধিত করতে গেলে কিংবা আগে থেকে অনুমতি নিতে গেলে, আধার নম্বর দিতে হবে।  

বিলটি পাস হওয়ার আগে এই বিল বিষয়ে আলোচনায় তৃণমূলের অধ্যাপক সাংসদ প্রফেসর সৌগত রায় জর্জ অরওয়েল-এর বিখ্যাত উপন্যাস 'নাইন্টিন এইট্টিফোর'-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পুরো দেশের উপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কীভাবে 'বিগ ব্রাদার'এর মতো নজরদারির চালাচ্ছে, এফসিআরএ বিল তার আরও একটি উদাহরণ। কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, এই বিলের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। পিএম-কেয়ারস তহবিলে কত বিদেশী অবদান এসেছে তাই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কংগ্রেস সাংসদ অ্যান্টো অ্যান্টনি-র দাবি, বিলটিতে সংখ্যালঘুদের নিশানা করা হয়েছে। আর এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে বিদেশি দান গ্রহণের ক্ষেত্রে আধার নম্বরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।