শীত পড়বে জাঁকিয়ে, থাকবেও বেশ দীর্ঘদিন। অন্তত, উত্তর ভারতে এইরকম আবহাওয়াই থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশন বা ডাব্লুএমও। ২৫ ডিসেম্বর তারা জানিয়েছে গত সেপ্টেম্বর মাসেই শুরু হয়ে গিয়েছে 'লা নিনা' (এক বিশেষ বৈশ্বিক আবহাওয়া শৈলি)। বর্তমানে তা একেবারে চরমে পৌঁছেছে এবং পরের গ্রীষ্মকালের শেষের আগে তা যাবে না।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর অর্থ হল, উত্তর ভারত এই বছর আরও আরও কঠোর ও দীর্ঘ শীতকাল দেখবে। মে, জুন এবং জুলাই মাসে 'লা নিনা'র পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে আগামী বছরের বর্ষাও। তবে তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্বব্যাপী আবহাওয়াকে প্রভাবিত করার চালিকাশক্তিগুলির একটি হল 'লা নিনা'। আবহাওয়া পরিস্থিতি শুধু এর উপর নির্ভর করে না। কাজেই এই পূর্বাভাস পুরোপুরি সঠিক নাও হতে পরে। মার্কিন জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলীয় কর্তৃপক্ষের অনুমান, ২০২১ সালের মার্চ মাসেও 'লা নিনা' প্রভাব অব্যাহত থাকার ৯৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার ডব্লিউএমও বলেছে যে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া আগামী তিন মাস ধরে একটি সাধারণ লা নিনার আবহাওয়ার প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে, বেশিরভাগ অংশে, বিশেষত ফিলিপাইন্সে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি সহকারে গড়ের চেয়ে শীতল পরিস্থিতি বেশি প্রভাবিত হবে।

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের পুনের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, আগেই জানানো হয়েছিল শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কম থাকবে। সাধারণত 'লা নিনা' ভারতে বর্ষাকে তরান্বিত করে। অর্থাৎ যে যে বছর লা নিনা তৈরি হয়, সেই বছরগুলিতে ভারতে স্বাভাবিক তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়। তবে এখনই বর্ষার জন্য নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়াটা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ। তারা বলেছে, 'লা নিনা' বছরগুলিতে শীতকালে পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা হিমশীতল বাতাস ভারতে প্রবেশ করে থাকে। আর সেই কারণেই শীতও পড়ে জাঁকিয়ে। শীত থাকেও অনেক দিন।

এই বছর ফেব্রুয়ারি অবধি কনকনে ঠান্ডা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই শীতের তীব্রতা টের পাওয়া যেতে পারে। কারণ আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ওই সময়ে বেশ কয়েকটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে হিমালয়ের পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সেখান থেকে বায়ু উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বয়ে এলে দারুণ ঠান্ডা পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই লা নিনা-র প্রভাবে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি শীতল ছিল বলে জানা গিয়েছে।