পূর্ব লাদাখের প্রায় এক মাস ধরে জারি রয়েছে অচলাবস্থা। ভারত ও চিন দুই দেশের সেনাবাহিনীই তৈরি রয়েছে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য। দুটি সেনাবাহিনীর স্থানীয় কমান্ডারদের মধ্যে ১২ দফা এবং মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে তিন দফা আলোচনার পর, শনিবার দুই দেশের দুই লেফট্যানেন্ট জেনারেল চিনের মলদো-তে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করলেন। আলোচনা কতটা সফল হল, সেই সম্পর্কে বিশদে না জানানো হলেও, এদিন ভারতীয় বাহিনীর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। তাঁর ইতিহাস বলছে একাধারে তিনি দক্ষ ও অভিজ্ঞ সৈনিক আবার সামরিক বিষয়ে পণ্ডিত-ও।

লেহ উপত্যকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৪ কর্পস-এর কমান্ডিং অফিসার তিনি। উধমপুরের নর্থ কমান্ডের আওতায় থাক এই বাহিনীর ডাকনাম 'ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কর্পস'। কারণ তারা 'সবচেয়ে প্রতিকূল এলাকা, আবহাওয়া এবং উচ্চতা'য় লড়াই করতে সক্ষম এবং এখানেই তারা নিযুক্ত।

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিশেষজ্ঞ হিসাবে পরিচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং গত বছর অক্টোবর মাসে এই দারুণ দক্ষ বাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেছিলেন। তার আগে তিনি সেনার গোয়েন্দা বিভাগের ডিরেক্টর, সামরিক অভিযানের ডিরেক্টর, অপারেশনাল লজিস্টিকস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক মুভমেন্টের ডিরেক্টরের পদ-সহ ভারতীয় সেনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয় তাঁর জম্মু ও কাশ্মীরে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আছে আবার রাষ্ট্রসংঘের মিশনের অংশ হিসাবে আফ্রিকাতেও কাজ করেছেন। সামরিক দক্ষতার পাশাপাশি সামরিক বিষয়ে অগাধ জ্ঞানেরও অধিকারী তিনি।

ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে বেরিয়ে হরিন্দর সিং একেবারে প্রথমে নিযুক্ত হয়েছিলেন মারাঠা লাইট ইনফ্যান্টরি-তে। পরে সেনার হয়ে কাজ করতে করতেই ডিফেন্স সার্ভিস স্টাফ কলেজ (ডিএসএসসি) থেকে স্নাতক হন। নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অফ ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস (আইডিএসএ) এবং সিঙ্গাপুরের এস এস রাজরত্নম স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (আরএসআইএস)-এ সামরিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণাও করেছেন। সামরিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধও লিখেছেন তিনি। এই বিষয়ে লেখক হিসাবে তাঁর বেশ খ্যাতি রয়েছে। সম্প্রতি একটি বইও লিখেছেন তিনি, যা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।