সোনিয়ার হস্তক্ষেপেও কাজ হল না। সূত্রের খবর,মন্ত্রিত্ব না পেয়ে এবার সোনিয়ার কাছে পদত্যাগের কথা বলেছেন কংগ্রেসের বেশকিছু বিধায়ক। একই পরিস্থিতি এনসিপিরও। যার জেরে প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে বলতে শোনা গেল, মহারাষ্ট্রের মহাজোট টিকবে না। এখনই এই অবস্থা তিন দলীয় জোটের। যদিও শিবসেনার দাবি, এসব কেবলই রটনা। শোনা যাচ্ছে, তলায় তলায় বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন কংগ্রেস ,এনসিপির বিক্ষুব্ধ বিধায়করা।

একমাসও গেল না।  মহারাষ্ট্রের মহাজোটে  অশান্তি শুরু। মন্ত্রিত্ব না পেয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ হলেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতারা। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে তড়িঘড়ি কংগ্রেসের বৈঠক ডাকলেন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি।  কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হয়নি। প্রিয় নেতাকে মন্ত্রী হতে না দেখে বিক্ষোভ দেখিয়েছে কংগ্রেসের সমর্থকরা। এমনকী খোদ সৌনিয়া গান্ধির কাছেই নাকি ইস্তফা দিতে চেয়েছেন এই বিধায়করা। মাত্র কিছুদিনের মধ্য়েই শিবসেনা, এনসিপি, কংগ্রেসের এই হাল দেখে মুখ খুলেছেন বিরোধী দলনেতা দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। মহারাষ্ট্রের মহাজোটকে খোঁচা দিয়ে ফড়নবীশ বলেন, খুব বেশদিন জোড়া তালি  দিয়ে এই সরকার চালানো যাবে না। নিয়ম নীতি না মেনে জোট করলে এই অবস্থাই হয়।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মন্ত্রিত্ব পাবেন না তা ভাবেনি পৃথ্বীরাজ চহ্বন। কিন্তু শিবসেনার শাসনে সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। পৃথ্বীরাজ চহ্বন ছাড়াও মন্ত্রী হতে পারলেন না দলিত নেতা সুশীল কুমার শিন্ডের মেয়ে। যার জেরে উদ্ধব ঠাকরের সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হন কংগ্রেসের ৬ বিধায়ক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হস্তক্ষেপ করতে হয় সোনিয়া গান্ধিকে। সূত্রের  খবর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মহারাষ্ট্রের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন সোনিয়া। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। উল্টে পুনেতে কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ বিধায়কের লোকজন। 

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর ফের ৩৬ জন বিধায়ককে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসেন উদ্ধব ঠাকরে। যাদের মধ্যে স্থান পান আদিত্য ঠাকরে, অনিল পরব, সঞ্জয় রাঠোর, গুলাবরাও পাতিল, দাদা ভুসে ও সন্দীপন ভুমরে। এদের মধ্য়ে এনসিপি থেকে মন্ত্রী হন দিলীপ ওয়ালেস পাতিল, ধনঞ্জয় মুন্ডে, অনিল দেশমুখ, হাসান মুশারিফ, রাজেন্দ্র সিংঘনে, নওয়াব মালিক, রাজেশ তোপে, বালাসাহেব পাতিল, জিতেন্দ্র অওয়াধ। কিন্তু কংগ্রেসের থেকে অশোক চহ্বন, বিজয়, ভারসে গাইকোয়াড়ে, সুনীল কেদার, অমিত দেশমুখ, ঘয়াসমতি ঠাকুর, আসলাম শেখ ও কেসি পদভি মন্ত্রী পদে শপথ নিলেও বাদ পড়ে যান অনেকেই।

সূত্রের খবর, এরপরই সোনিয়া-রাহুলের কাছে মন্ত্রিত্ব নিয়ে দরবার করেন অন্তত ৬ জন কংগ্রেস বিধায়ক। এই বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন পৃথ্বীরাজ চহ্বন,নাসিম খান, প্রণতি শিন্ডে,সংরাম থোপটে, আমিন প্যাটেল এবং রোহিদাস পাতিল। ইতিমধ্য়েই মহারাষ্ট্রে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন কংগ্রেস বিধায়কদের সমর্থকরা। যার জেরে শুরুতেই ধাক্কা খেতে চলেছে তিন দলীয় মহাজোট। তবে উদ্ববের দল জানিয়েছে, জোর করে এই ধরনের খবর খাওয়ানো হচ্ছে। এরকম কিছুই হয়নি।