লকডাউন চলাকালীন মাওবাদি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে বারবার বাধা এসেছে। গ্রামে গ্রামে তাঁদের যাতায়াত বন্ধ করতে ছত্তিশগড়ে একাধিক সেতু-ও পুড়িয়ে দিয়েছে মাওবাদীরা। খুঁড়ে দিয়েছিল রাস্তাঘাট। আর এখন সেই মাওবাদীরাই কাঁপছে কোভিড-১৯'এর ভয়ে। এতটাই সন্ত্রস্ত তারা যে এখন কোনও ক্যাডারের মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিলেই তাদের বহিষ্কার করা শুরু করেছে তারা। আর এভাবেই ছত্তিশগড়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ডাকসাইটে মাও নেত্রী সুমিত্রা চেপা।

তাকে ধরার জন্য ছত্তিশগড় পুলিশ ৩ লক্ষ রুপি পুরষ্কার ঘোষণা করেছিল। কুখ্যাত মাও নেতা হিদমা-র ১ নং ব্যাটালিয়নের অন্যতন সদস্য ছিলেন এই সুমিত্রা। কিন্তু সম্প্রতি তার শরীরে কোভিড-এর লক্ষণ দেখা যেতেই তাঁকে ব্যাটেলিয়ন থেকে বের করে দিয়ে তাকে তার নিজের গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়েই অবশ্য ছত্তিশগড় পুলিশ বাহিনী তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। বর্তমানে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে তার কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। কাজেই তিনি সত্যি সত্যি করোনা পজিটিভ কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ জুন বিজাপুর জেলার মোদকপাল থানা এলাকার পেদ্দাকাওয়ালি অরণ্যে এক সন্দেহজনক মহিলার উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এরপরই বিজাপুর ডিআরজি বাহিনীকে সেখানে পাঠানো হয় এবং ধরা পড়ে যায় ওই মাও নেত্রী। বস্তার রেঞ্জের পুলিশ ইন্সপেক্টর সুন্দর রাজ পি জানিয়েছেন, আপাতত সুমিত্রা চেপাকে কারাগারেই একটি কক্ষে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হবে এবং আইনানুগ সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুমিত্রা চেপা জানিয়েছে, তার শরীরে কোভিড -১৯-এর লক্ষণ দেখা যাওয়ায় তার থেকে অন্যান্য সদস্যরা কোভিড সংক্রামিত হতে পারেন আশঙ্কাতেই তাকে ১ নম্বর ব্যাটালিয়ন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার দাবি, আরও বেশ কয়েকজন মাও সদস্যেরও সর্দি, কাশি এবং জ্বরেরর মতো করোনা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এই নিয়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে মাও শীর্ষ নেতৃত্বে। তাই লক্ষণ দেখা দিলেই বাকিদের সুরক্ষার দোহাই দিয়ে একের পর এক সদস্যকে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

ছত্তিসগড় পুলিশ একে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সাফল্য পাওয়ার বড় সুযোগ বলে মনে করছে। কোভিড-১৯'এর ভয়ে মাওবাদীদের ব্যাটেলিয়ন থেকে বহিষ্কৃত হওয়া ক্যাডারদের দেখতে পেলেই পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে গ্রামবাসীদের কাছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রামবাসীরা খবর দিলেই তারা ওই মাও সদস্যদের চিকিত্সা ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেবে। সেইসঙ্গে সমস্ত থানা এবং আধাসামরিক বাহিনীকে সজাগ থাকতে এবং অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে, সুমিত্রার মতো বড় মাপের নেত্রীকে জেরা করে ১ নম্বর ব্যাটালিয়নের আস্তানা এবং তাদের কৌশল সম্পর্কে বিশদ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাকে কাজে লাগিয়ে ভয়ঙ্কর মাও নেতা হিদমা পর্যন্ত পৌঁছনোটাই একন তাঁদের লক্ষ্য। মনে করা হয় দান্তেওয়াড়ায় মাওবাদী হামলা এবং ২০১৩ সালের সুকমা হামলা-সহ নিরাপত্তা কর্মীদের উপর বহু মারাত্মক হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এই হিদমা।