চলে গেলেন 'মহাশয়' ধর্মপাল গুলাটি। বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তাঁর নামটা অনেকের কাছেই অপরিচিত হলেও, মশলার প্যাকেটের গায়ে, গোঁফ ও পাগরি-সহ তাঁর আইকনিক মুখ ভূভারতে শুধু নয় সারা বিশ্বেই বেশ পরিচিত। কানে বাজে বিজ্ঞাপনের সেই লাইন, 'আসলি মশালে সচ সচ, এমডিএইচ'।

তাঁককে বলা হত, 'মশলা কিং', অর্থাৎ মশলা জগতের রাজা। গত তিন সপ্তাহ ধরেই দিল্লির মাতা চানন দেবী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এমডিএইচ মশলা ব্র্যান্ডের মালিক তথা সিইও ধর্মপাল গুলাটি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বুধবার রাত থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল বর্ষিয়ান এই মশলা ব্যবসায়ীর। বৃহস্পতিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর, ডাক্তারদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়।

১৯২৩ সালে পাকিস্তানের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ধর্মপাল গুলাটি। সেখানে তাঁর বাবার একটি ছোট মশলার দোকান ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তাঁর পরিবার ভারতে দিল্লিতে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। হাতে ছিল মাত্র ১,৫০০ টাকা। ১৯৫৩ সালে, ধর্মপাল গুলাটি দিল্লির করোল বাগে একটি ছোট্ট দোকান ভাড়া নিয়েছিলেন। শুরু করেছিলেন মশলা বিক্রি। দোকানের নাম দিয়েছিলেন মহাশিয়ান দি হাট্টি, সংক্ষেপে এমডিএইচ। আর তাই ভবিষ্যতে ভারতের অন্যতম শীর্ষ মশলা ব্র্যান্ড-এ পরিণত হয়েছে।  

ব্যবসা শুরুর ৬ বছরের মাথায়, ১৯৫৯ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সংস্থা এমডিএইচ-এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কীর্তিনগরে এক টুকরো জমি কিনে স্থাপন করেছিলেন এমডিএইচ মশলার প্রথম কারখানা। বর্তমানে এমডিএইচ স্পাইসেস-এর ১৫ টি কারখানা ছড়িয়ে রয়েছে সারা দেশে। প্রায় ৫০টি ভিন্ন প্রকারের মশলা তৈরি করে এই সংস্থা। শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়েই বিক্রি হয় সেইসব মশলা।

২০১৭ সালে ভারতে যেসব এফএমসিজি অর্থাৎ ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস সংস্থা রয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতনভুক সিইও ছিলেন ধর্মপাল গুলাটি। ছোট্ট দোকান থেকে যেভাবে তিনি নিজেকে ভারতের অন্যতম সেরা উদ্যোগপতি হিসাবে উন্নিত করেছিলেন, তা ভবিষ্যতের অনেক উদ্যোগপতিকেই উদ্বুদ্ধ করেছে। ২০১৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ-এ ভূষিত করেছিল। তবে শুধু মশলা বিক্রিই নয়, মশলা কিং বেশ কিছু হাসপাতাল ও স্কুলও স্থাপন করেছিলেন। এমনকী করোনা মহামাকরির সময়েও তাঁকে এই একশো ছুঁই ছুঁই বয়সেও দিল্লি সরকারের হাতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) তুলে দিতে দেখা গিয়েছিল।