সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। ১৭ নভেম্বরের আগে এই মামলার রায়ও বের হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হিন্দু পক্ষের আশা এইবার রাম জন্মভূমির দখল আসবেই তাঁদের হাতে। কিন্তু অনেকেই চেনেন না এই আশার বীজ রোপনের পিছনের মালিটিকে। তিনি ৯২ বছরের বৃদ্ধ আইনজীবী কে পরাশরন। হিন্দুদের হয়ে এই আইনি লড়াইটায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনিই।

কে এই কে পরাশরন?

সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম বর্ষিয়ান এই আইনজীবী আইন ব্যবসা করে আসছেন ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে। এর মধ্যে ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ সামলেছেন। তার আগে ১৯৭৬ সালে তামিলনাড়ুর অ্যাডভোকেট জেনারেল ছিলেন। ২০০৩ সালে এই বিশিষ্ট আইনজীবীকে ভারত সরকার পদ্মভূষণ ও ২০১১ সালে পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তিনি ছয় বছরের জন্য রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন। ভারতীয় সংবিধান ও প্রাচীন ধর্ম বিষয়ে তাঁর প্রগাঢ় জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন মামলায়।

রামমন্দির মামলায় পরাশরনের ভূমিকা

শবরিমালা মন্দির মামলা-সহ বেশ কয়েকটি বড় মামলার দায়ভার সামলেছেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিয়েছেন অবশ্যই অযোধ্যা জমি বিতর্ক মামলায়। তাঁকে এই মামলায় সহায়তা করেছেন আরও বেশ কয়েকজন দুঁদে আইনজীবীদের একটি দল। এই দলে রয়েছেন ভি যোগেশ্বরণ, অনিরুদ্ধ শর্মা, শ্রীধর পোটারাজু, অদিতি দানি, অশ্বিনকুমার ডি এস এবং ভক্তিবর্ধন সিং। শুনানির সময়ের আগে এবং পরে পরাশরন ক্রমাগত এই মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে পড়াশোনা করে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। ৯২ বছর বয়সে পরাশরনের প্রাণশক্তি দেখে তাঁরা মুগ্ধ। মামলায় মুসলিম পক্ষের আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান মাঝে মাঝেই মেজাজ হারিয়েছেন। পরাশরন কিন্তু বরাবরই ঠান্ডা মাথায় সওয়াল জবাব করে গিয়েছেন।

শুনানির শুরুতেই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন ৪৩৩ বছর আগে রামজন্মভূমিতে মসজিদ স্থাপন করে বাবর একটি ঐতিহাসিক ভুল করেছিলেন, তা সংশোধন করতেই হবে। এরপর শুনানির এক পর্যায়ে বলেছিলেন, 'আমি বলব, যেখানে একসময় মন্দির ছিল সেখানে সবসময়ই মন্দির হবে। মুসলিম পক্ষ অবশ্য পাল্টা যুক্তি দিয়েছিল, 'একবার যেখানে মসজিদ হয়েছে, সবসময় সেখানে মসজিদই হবে।

তবে এই মামলায় পরাশরনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য যুক্তি ছিল, মুসলমানরা অন্য যে কোনও মসজিদে নামাজ পড়তে পারে। শুধু অযোধ্যাতেই ৫৫ থেকে ৬০টি মসজিদ রয়েছে। তবে, হিন্দুদের কাছে এটিই রামজন্মস্থান, এর তো কোনও বিকল্প হতে পারে না।

উত্যপ্ত বাদানুবাদেও হারাননি শিষ্ঠাচার

আদালত কক্ষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তীব্র যুক্তির লড়াই হলেও তার বাইরে কখনই শিষ্ঠাচারে খামতি হয়নি এই বর্ষিয়ান আইনজীবীর। অযোধ্যা মামলার ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে আদালত কক্ষে প্রতিপক্ষের রাজীব ধাওয়ান তাঁকে উচ্চস্বরে অনেক কিছু বললেও দিনের শুনানির শেষে সেই রাজীব ধাওয়ানের সঙ্গে হাত মেলানোর জন্যই পরাশরন প্রায় মিনিট পনেরো অপেক্ষা করেছেন।

আধ্যাত্মিক যোগই নিহিত তাঁর শক্তি

পরাশরন নিজে জানিয়েছেন, ভগবান রামের সঙ্গে তিনি আধ্যাত্মিক যোগ খুঁজে পান। সেই আধ্যাত্মিক সংযোগই তাঁর অন্তরের নিহিত শক্তি। সেই আধ্য়াত্মিকতার সঙ্গেই তিনি তাঁর আইনজ্ঞানকে মিশিয়ে দিয়েছিলেন এই মামলার ক্ষেত্রে। আর তাতেই বাস্তব হতে চলেছে ৮০ কোটি হিন্দুর স্বপ্ন।