১৯৬২ সালের পর আবার লাদাখে ভারত-চিন সীমান্ত অগ্নিগর্ভ । গত ১৫ জুন মধ্যরাতে লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের সেনা সংঘর্ষ শুরু হয় । যাতে সরকারি হিসাবে ২০ জন ভারতীয় সেনার শহিদ হওয়ার কথা জানান  হয়েছে । এই পরিপ্রেক্ষিতে এখন দেশজুড়ে চলছে চিন বিরোধী স্লোগান। দলমত নির্বিশেষে চিনা পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে । এই পরিস্থিতিতে এবার চিনা সংস্থারকে এড়াতে গোটা টেন্ডার প্রক্রিয়াই বাতিল করে দিল মুম্বই মনোরেল।

সম্প্রতি ভারতীয় রেল চিনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেলের তরফ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, "পূর্ব কানপুর ও মোগলসরাইয়ের মধ্যে ৪১৭ কিলোমিটার ফ্রেইট করিডরে সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন কাজের জন্য যে চিনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল, তাদের কাজের গতি অত্যন্ত খারাপ। তাই চুক্তি বাতিল করা হল ।" এর আগে  ২০১৬ সালে ভারতীয় রেল বেজিং-এর ন্যাশনাল রেলওয়ে রিসার্চ অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউটকে ৪৭১ কোটি টাকার বরাত দিয়েছিল ।  এই সংস্থাটি মূলত সিগন্যাল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কাছ করে ।  চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০১৯ সালে ।  কিন্তু চুক্তির সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা তো দূরের কথা, রেল খোঁজ নিয়ে দেখেছে ৪ বছরে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ হয়েছে । 

শুধু ভারতীয় রেল নয় , চুক্তি বাতিলের পথে হেঁটেছে ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশনও। চিনা সংস্থাগুলির সঙ্গে পার্টনারশিপে ভবিষ্যতে ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশন আর কাজ করবে কিনা, তা নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা হবে বলে স্পষ্ট জানান হয়েছে। । পাশাপাশি টেলিকম দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা বিএসএনএল-কে ৪জি নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশনে চিনা সরঞ্জাম বর্জন করতে বলা হয়েছে। এবার সেই পথে হাঁটল মুম্বই মনোরেলও।

জানা যাচ্ছে, মুম্বই মনোরেলের জেকব সার্কেল-ওয়াদালা-চেম্বুর লাইনের জন্য ১০টি মনোরেলের রেকের বরাত দিয়ে টেন্ডার ডেকেছিল মুম্বইয়ের পরিবহন ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এই কাজের জন্য খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু শেষে দেখা যায়, মাত্র দু'টি চিনা সংস্থা- চায়না রেল রোড কর্পোরেশন এবং বিল্ড ইওর ড্রিম- টেন্ডার জমা দিয়েছে। আর কোনও প্রতিযোগী নেই। এমনকি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি কোনও ভারতীয় সংস্থাও।  যে কারণে গোটা টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আগেই দেশকে আত্মনির্ভর হওয়ার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লাদাখে চিনের সেনাদের হামলার পর প্রধানমন্ত্রীর ডারা সর্বদল বৈঠকেও টেলিকম, রেল ও বিমান পিরষেবা ক্ষেত্রে চিনা বিনিয়োগকে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার মুম্বইয়ের মনোরেলও স্বদেশি'র উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটান কমিশনার আরএ রাজীব। তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই নতুন টেন্ডার ডাকা হবে। আর ভারতীয় সংস্থাগুলি যাতে এতে অংশ নিতে পারে সে জন্য বরাত পাওয়ার শর্তে পরিবর্তন আনা হবে।