নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত ভারতের রাজধানী। এরমধ্যেই ভারত সফরে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দুদিনের সফর ঘিরে ব্যস্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্রাম্প দেশে ফিরতেই দিল্লিতে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য ট্যুইট করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী লেখেন, "শান্তি ও সম্প্রীতি আমাদের নৈতিক আদর্শ। দিল্লির বোন ও ভাইয়েদের কাছে শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার জন্য আবেদন করছি। শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাই এখন লক্ষ্য।"

 

 

এদিকে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হিংসা অব্যাহত। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। রাজধানীতে এই হিংসাত্বক পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই দায়ি করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। । এদিন রীতিমতেন সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করেছেন সনিয়া। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে সনিয়া বলেন, ” গত এক সপ্তাহ ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কী করছিল? কোথায় ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?” দিল্লির পরিস্থিতির অবনতি হতে দেখেও কেন আগেই আধা সামরিক বাহিনী ডাকা হল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। তাঁর কথায়, “রাজধানীর অশান্তির পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই স্পষ্ট হয়েছে।একাধিক বিজেপি নেতাদের উসকানিমূলক মন্তব্যে ক্রমাগত হিংসা ছড়াচ্ছে।” 

 

 

একইসঙ্গে তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও একহাত নিয়েছেন সনিয়া। তাঁর কথায়, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও দিল্লির সরকারও অশান্তির জন্য একইভাবে দায়ী।

আরও পড়ুন: পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে দিল্লি পুলিশের, তীব্র তিরস্কার শীর্ষ আদালতের

আরও পড়ুন: দিল্লিতে অব্যাহত মৃত্যু মিছিল, কেন্দ্রের কাছে সেনা চাইলেন কেজরিওয়াল

এদিন শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্গা গান্ধীও।

 

এর মাঝেই  অশান্তি বিধ্বস্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লির চাঁদবাগের এক নর্দমা থেকে বুধবার সকালে উদ্ধার হল এক গোয়েন্দা কর্তার দেহ। ইনটেলিজেন্স ব্যুরো আধিকারিকের নাম অঙ্কিত শর্মা। মনে করা হচ্ছে গণবিক্ষোভের শিকার হয়েছেন তিনি। পাথরের আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজধানীতে। এদিকে  রবিবার থেকে ছড়ানো হিংসায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১।