প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষিত ২০ লক্ষ কোটি টাকার বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ বা আত্মনির্ভর ভারত অর্থনৈতিক উদ্দিপনা প্যাকেজ জিডিপির দশ শতাংশের সমান অর্থনৈতিক সুবিধা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এর জন্য সরকারের ব্যয় কত জানেন? জিডিপির এক শতাংশ-ও নয়। অর্থনৈতিক সুবিধা এবং আসল ব্যয়ের মধ্যে এই বিশাল পার্থক্যের মূল কারণ, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির মতো অ-বৈষয়িক সুবিধাই বেশি দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের হিসাব বলছে, আত্ম-নির্ভর ভারত-এর মোট নীতিগত অর্থনৈতিক সমর্থনের পরিমাণ প্রায় ১১ লক্ষ কোটি টাকা। প্রত্যক্ষ ভাবে রাজস্বের ক্ষেত্রে এর প্রভাব মাত্র ১ লক্ষ কোটি টাকার, যা জিডিপির মাত্র ০.৫ শতাংশ। এটি নিয়ে সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক প্যাকেজের পরিমাণ জিডিপির মাত্র ০.৮ শতাংশ।

ব্রিচিশ বহুজাতিক ব্যাঙ্ক ও অর্থনৈতিক সংস্থা 'বার্কলেজ'-এর একটি প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে আরবিআই-এর ঘোষিত ৮ লক্ষ কোটি টাকা-সহ ভারত সরকার যে ২০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি পরিমাণ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তাতে সরকারের রাজস্ব সংগ্রহে প্রভাব পড়বে মাত্র ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার। অর্থাৎ এই আর্থিক বছরে রাজস্ব খাতে সরকারের আয় কম হবে ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা, যা ভারতের জিডিপির ০.৭৫ শতাংশ মাত্র।

কেন্দ্রের দাবি, এই অর্থনৈতিক প্যাকেজটি শুধু করোনভাইরাস সংকটের মোকাবিলাই নয়, আরও বড় প্রভাব ফেলবে ভারতের অর্থনীতিতে। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদূর-ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে 'তাৎক্ষণিক রাজস্ব চাপ' আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা বলেছেন, 'মধ্য-মেয়াদী সংস্কার অবশ্যই অপরিহার্য, কিন্তু অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক কার্যকর চাহিদা তৈরির জন্য আরও কঠোর প্রত্যক্ষ রাজস্ব চাপ প্রয়োজন ছিল।'