১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম গডসের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর। দেশের জন্য তাঁর আত্মবলিদানকে স্মরণ করতে এই দিন গোটা ভারতে পালিত হচ্ছে জাতীয় শহিদ দিবস। এদিনই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া প্রদেশের ডাভিস শহরে মহাত্মা-র মূর্তি ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা করল ভারত সরকার। শান্তি ও ন্যায়বিচারের সার্বজনীন আইকনের মূর্তি ভাংচুরের ঘটনাটিকে ভারত সরকার 'বিদ্বেষপূর্ণ ও ঘৃণ্য' বলে অভিহিত করেছে।

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে ভারত সরকারই ডাভিস শহরকে মহাত্মার ওই মূর্তিটি উপহার হিসাবে দিয়েছিল। দুদিন আগে, ২৮ জানুয়ারি ডাভিস সেন্ট্রাল পার্কে স্থাপিত সেই মূর্তিটি ভাঙচুর করে অজ্ঞাত পরিচয় কিছু দুষ্কৃতী। কারা, কেন এবং কী উদ্দেশ্যে ওই কাজ করেছে, তা এখনও জানা যায়নি। কোনও গোষ্ঠী বা ব্যক্তিবর্গ ঘটনার দায় স্বীকারও করেনি। গোটা বিশ্বের মতো আমেরিকাতেও অহিংসার পূজারি মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী অত্যন্ত সম্মানিত এক ব্যক্তিত্ব।  

২০১৬ সালে ডাভিস সেন্ট্রাল পার্কে স্থাপিত হয়েছিল মহাত্মার এই মূর্তিটি

এদিন, ওয়াশিংটনের ডিসি-তে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতরের কাছে, জাতির জনকের মূর্তি ভাঙচুরের এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ভারত সরকার। এছাড়া, সান ফ্রান্সিসকো-তে অবস্থিত ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল, আলাদাভাবে ডাভিস সিটি এবং স্থানীয় পুলিশ বিভাগকে বিষয়টির যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ভারতীয়-মার্কিনি সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি  সংগঠনও ভাঙচুরের এই ঘটনার নিন্দা করে তদন্ত চেয়েছে।

২৯ জানুয়ারি সকালে মূর্তিটি সম্পূর্ণ উৎপাটিত অবস্থায় পাওয়া যায়

এই ঘটনা নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ডাভিস শহরের মেয়র। তিনি জানিয়েছেন ইতিমধ্য়েই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। আর মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, এই ভাঙচুরের কাজকে একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। তারা ঘটনার নিন্দা করছে এবং তাদের আশা, অপরাধীদের শীঘ্রই বিচারের আওতায় আনা যাবে।