'সুপার ৩০'র আনন্দ কুমার-কে মনে আছে? এবার সেই আনন্দ কুমারের সঙ্গেই হাত মেলাতে চলেছে মোদী সরকার। তপশিলী জাতি (এসসি) এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণী (ওবিসি)-র শিক্ষার্থীদের প্রিমিয়ার আইআইটি কোচিংয়ের কথা ভাবছে মোদী সরকারের । আর তার জন্য়ই আনন্দ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক।

'দ্য প্রিন্ট'-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবারই মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনন্দ কুমারের এই প্রস্তাব নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আনন্দ কুমার সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির বিশেষত তপশিলী শিক্ষার্থীদের অ্য়াকাডেমিক ফলাফল উন্নয়নে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এখনও কিছু না হলেও শীঘ্রই চূড়ান্ত আলোচনা হবে। প্রকল্পটি কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই পরিকল্পনা তৈরির বিষয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

এক পদস্থ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, এই উদ্যোগর সমস্ত ব্যয়ভার বহন করবে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। মোদী সরকারের যে বিনামূল্যে কোচিং-এর প্রকল্প রয়েছে, সেটিকেই কিছুটা এদিক-ওদিক করে অনলাইনে সুপার-৩০ এর মতো এক্সেলেন্স সেন্টার-এর কোচিং-এর ব্যবস্থা করা হবে। মন্ত্রক থেকে অনুদান পায় এমন ২৫ টি স্কুল নির্বাচন করা এই কোচিং প্রকল্পের জন্য। এই প্রকল্পের আওতায় এসসি ও ওবিসি বিভাগ থেকে কমপক্ষে ২০০০ উজ্জ্বল শিক্ষার্থী বাছাই করে তাদের অনলাইনে পাঠ সহজ কগরে তোলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি ল্যাপটপ বা ট্যাব সরবরাহ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আনন্দ কুমার একজন গণিতজ্ঞ। সুপার-৩০ তাঁরই মস্তিষ্ক প্রসূত। প্রতিবছর দরিদ্রতম পরিবারগুলি থেকে ৩০ জন করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বেছে নিয়ে বিনামূল্যে আইআইটি প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য কোচিং সরবরাহ করে এই সপার-৩০ এক্সেলেন্স সেন্টার। রেকর্ড বলছে আইআইটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের সাফল্যে হার দারুণ। কেমন? ২০১৭ সালে তাঁর ৩০ জন শিক্ষার্থীই জেইই (অ্যাডভান্সড) পরীক্ষায় ভালো ফল করেছিল। ২০১৬ সালে ২৮ জন শিক্ষার্থী এবং ২০১৮ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ২৬ জন। এবার আনন্দ কুমারের ম্যাজিকই সমাজের ততাকথিত পিছিয়ে পড়া জাতির শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে হিরে খুঁজে আনতে ব্যবহার করবে সরকার।