আইটি শিল্প বিশেষত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) এবং আইটি এনএবেবলড সার্ভিসেস-এর ক্ষেত্রে 'ইজ অফ ডুইং বিজনেস' বা ব্যবসায়িক স্বাচ্ছন্দের উল্লেখয়োগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। এদিন টেলিকম বিভাগের অন্যান্য পরিষেবা সরবরাহকারী বা ওএসপি সংক্রান্ত নির্দেশিকা আরও শিথিল করে নয়া নির্দেশিকা প্রকাশ করল সরকার, যা বিপিও শিল্পের আনুগত্যের ভার লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে উচ্ছ্বসিত তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প মহল। এই ক্ষেত্রের শিল্পনেতারা সরকারের এই পদক্ষেপকে 'গেমচেঞ্জার বলছেন'।

এদিন সরকার ওএসপিগুলির জন্য নিবন্ধকরণের প্রয়োজনীয়তা সম্পূর্ণভাবে তুলে দিয়েছে। তথ্য সম্পর্কিত কাজে নিযুক্ত বিপিও শিল্পকেও এই ওএসপি বিধিবিধিগুলির আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা রাখা, স্থিতিশীল আইপি-র প্রয়োজনীয়তা, ঘন ঘন প্রতিবেদনের বাধ্যবাধকতা, নেটওয়ার্ক ডায়াগ্রাম প্রকাশ, জরিমানার বিধান-এর মতো এতদিনের আবশ্যিক বিষয়গুলি বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' অর্থাৎ বাড়ি থেকে কাজ করা বা যে কোনও জায়গা থেকেই কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে এমন নীতিগুলি সবই বাতিল করা হয়েছে।

এই নতুন কাঠামো ভারতের আইটি শিল্পে দারুণ গতি আনবে এবং ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক তথ্য প্রযুক্তি কেন্দ্রে  পরিণত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এদিন এই নতুন নির্দেশিকাগুলি জারি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারতের আইটি ইন্ডাস্ট্রি দেশের গর্ব এবং নতুন নির্দেশিকাগুলির লক্ষ্য অনাবশ্যক আমলাতান্ত্রিক বিধিনিষেধ অপসারণ করে নতুন উদ্ভাবনী পণ্য এবং উদ্ভাবনী সমাধানের বিষয়ে ফোকাস করার সুযোগ করে দেবে। এতে করে দেশের মেধাবী যুব সম্প্রদায়ের সম্ভাবনা প্রকাশ ঘটবে এবং 'আত্মনির্ভর ভারত' গড়ার কাজ আরও এগোবে।

ভারতের আইটি এবং বিপিও শিল্পের নেতারাও বাড়ি বা অন্য যে কোনও জায়গা থেকে কাজ করার সুবিধার্থে নির্দেশিকাগুলি শিথিল করার লক্ষ্যে মোদী সরকারের এই নতুন পদক্ষেপের দারুণ প্রশংসা করেছেন। এর ফলে ছোট ছোট শহরে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। ন্যাসকম, উইপ্রো, টেক মাহিন্দ্রা, ডাব্লুএনএস থেকে শুরু করে প্রায় সকলেই এই পদক্ষেপ আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য গেমচেঞ্জার বলে মনে করছেন। 'এই দীর্ঘমেয়াদী এবং প্রগতিশীল পদক্ষেপ' ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পকে আরও বেশি 'প্রতিযোগিতামূলক' করে তুলবে বলে একোগে মত দিয়েছেন তাঁরা। একে আইটি শিল্পের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের মাথারা। ভারতকে বিশ্বের অন্যতম আইটি হাব হিসাবে গড়ে তোলার জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগীও বলছেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, আইটি এবং বিপিএম সেক্টরকে ভারতে বেসরকারী খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বৃহত্তম ইঞ্জিন বলা হয়। ন্যাসকমের তথ্য অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ আর্থিক বছরে ভারতে প্রযুক্তি শিল্পের আয় হয়েছে ১০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর কর্মসংস্থান হয়েছে ২০ লক্ষেরও বেশি ভারতবাসীর।