ট্রাম্পের আগমনে বণিক মহলে সেভাবে সাড়া নেই। থাকবেই বা কী করে? বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধনতান্ত্রিক দেশের প্রধান আসছেন, অথচ তার সঙ্গে বানিজ্য চুক্তিই হচ্ছে না। এরপর আর বণিক মহল কীভাবে উৎসাহিত হয়? কিন্তু, তাদের বিরাট আশ্বাস দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানালেন এবার হচ্ছে না, তবে শিগগিরই ঐতিহাসিক মাত্রার বানিজ্য চুক্তি হবে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে। তবে সেই সঙ্গে রসিকতার মেজাজে জানিয়েও দিলেন, তাঁর বন্ধু নরেন্দ্র মোদী দরাদরিটা খুব ভালো করেন, তাই সহজে চুক্তিটা হচ্ছে না।

এদিন মোতেরা স্টেডিয়ামে তিনি বলেন ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো আর্থিক দিক থেকেও একে অপরের সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি এখনও একেবারে প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। চুক্তি হলে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনকার পাঁচিল ভেঙে যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বসে আলোচনা করে খুব শিগগিরই তাঁরা এমন এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছবেন, যা দুই দেশের জন্যই দারুণ লাভবান হবে।

এরপরই একটু থেমে মুচকি হেসে তিনি বলেন, তবে মোদী দারুণ দরাদরি করতে পারেন। এরপরই তাঁর হেসে তিনি মঢ্য়ে বসা মোদীর দিকে তাকান। মোদীকেও দেখা যায় হাসতে। দর্শকরাও সোল্লাশে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই রসিকতার ছলে ভারতীয় প্রদানমন্ত্রীর প্রশংসা করাকে স্বাগত জানান।

পরমুহূর্তেই ফের রসিকতা পিছনে ফেলে ট্রাম্প জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারত-মার্কিন বানিজ্য ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ভারত বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির অন্যতম বৃহৎ বাজার। আবার অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ও ভারতের সর্ববৃহৎ রপ্তানি বাজার। তাঁর দাবি আমেরিকার আর্থিক বৃদ্ধি হওয়া ভারত তথা বিশ্বের জন্যই ভালো খবর। তিনি আরও দাবি করেন, এই মুহূ্তে আমেরিকার অর্থনীতি ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আমেরিকায় প্রমাণিত হয়েছে, কর্মসংস্থান তৈরির সেরা উপায় হল, বানিজ্যের বার লাঘব করা, নতুন বিনিয়োগের জন্য বাধা সরানো, আর আমলাতন্ত্রের লালফিতের বাধন সরানো। তিনি জানান, ভারতে একই কাজ নিরলসভাবে করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ইতিমধ্যেই তিনি অনেক সংস্কার করেছেন। গোটা বিশ্ব তাঁর নেতৃত্বে ভারতে বানিজ্যিক পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করছে। মোদী দারুণ দ্রুততার সঙ্গে সেই কাজ করছেন।

মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প দুই বছর আগে হায়দরাবাদে এক উদ্যোগপতিদের সমাবেশে এসেছিলেন স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। সেইসঙ্গে জানান বিশ্বের বানিজ্য মানচিত্রে ভারতীয় মহিলা উদ্যোগপতিরাও দারুণভাবে উঠে আসছেন। পুরুষ উদ্যোগপতিদের রকিসকতার ছলে সাবধানও করেন। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে বানিজ্য মহিলাদের রক্তে রয়েছে।