স্প্যানিশ শব্দ এল নিনো, যার অর্থ ছোট ছেলে। এল নিনো একটি উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত।

চলতি বছরে দেশে বর্ষা প্রবেশে যথেষ্ট বিলম্ব হয়েছে। তবে দেরিতে হলেও গরম থেকে মিলেছে স্বস্তি। মৌসম ভবন জানিয়েছিল স্বাভাবিক ভাবেই পড়বে বর্ষা। কিন্তু এরই মধ্যে 'এল নিনো'-এর আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিশেষজ্ঞরা। 'এল নিনো'-এর প্রভাবেই কি প্রখর তাপে পুড়তে পারে ভারত? ভারতে সাধারণত জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই বর্ষা প্রবেশ করে। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত থাকে বর্ষার স্থায়ীত্ব। তবে আমেরিকার ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের গবেষকদের দাবি এই বছর এই সময়ই তৈরি হতে পারে শক্তিশালী 'এল নিনো'। যার প্রভাবে প্রবল গরম পড়তে পারে দেশজুড়ে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কী এই 'এল নিনো'?

স্প্যানিশ শব্দ এল নিনো, যার অর্থ ছোট ছেলে। এল নিনো একটি উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত। যার প্রভাবে বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে একাধিক দেশের আবহাওয়ায়। ২০১৫ সালে প্রথম প্রশান্ত মহাসাগরে দেখা মিলেছিল এই এল নিনোর। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে ২০২৩ সালে ফের ফিরে আসতে সেই গরম স্রোত এল নিনো। যার ফলে জুলাই মাসে বর্ষার উপর পড়তে পারে বিরুপ প্রভাব।

বুধবার থেকেই বৃষ্টি বাড়ছে উত্তরের জেলাগুলোতে। বুধবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে। বৃষ্টি বাড়বে উপরের পাঁচ জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জেরে ধসের আশঙ্কাও প্রকাশ করছে আলুপুর। ইতিমধ্যেই তিস্তা তোর্সা জলঢাকা সহ উত্তরবঙ্গের নদীগুলি জলস্তর বেড়ে বিদপসীমার কাছাকাছ পৌঁছেছে। জলস্তর আরও বাড়লে প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা।

কলকাতায় বৃষ্টির রেকর্ড ১০০ সেন্টিমিটার ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি। জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে পার্ক স্ট্রিট, মাদুরদহ, পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট এলাকা, কালিন্দী যশোর রোড, উলটোডাঙ্গা মুচিপাড়া অঞ্চল, বাঙ্গুর এভিনিউ, বেলেঘাটা অঞ্চল, ফুলবাগান, হরিদেবপুর, বেহালা ও পাটুলি সংলগ্ন অঞ্চলগুলি। সল্টলেক সেক্টর ফাইভ সংলগ্ন এলাকাতেও মধ্যরাত থেকে প্রায় হাঁটুজল অবস্থা। জল জমেছে ই এম বাইপাস সংলগ্ন রুবি ও মুকুন্দপুর এলাকাতেও, এই এলাকায় রাস্তায় নিকাশি ব্যবস্থার কাজ হওয়ার দরুন সমগ্র অঞ্চল ব্যাপকভাবে জলমগ্ন।