গাড়ির দাম বাইশ লক্ষ টাকা। বয়স মাত্র তিন মাস। কিন্তু সেই গাড়ি কেনার পর থেকেই পরের পর বিপত্তি। কখনও গাড়ির ক্লাচ খারাপ তো কখনও মাঝরাস্তায় বিগড়ে গিয়ে আর এগোতে চায় না দামি এসইউভি। ক্ষুব্ধ গ্রাহক শেষ পর্যন্ত গাধা দিয়ে নিজের দামি গাড়িকে রাস্তা দিয়ে টেনে নিয়ে গেলেন। প্রতীকী এই প্রতিবাদের ছবি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে গাড়ি নির্মাতা সংস্থা। শেষ পর্যন্ত দাম ফেরত দেওয়া অথবা গাড়ি বদলে দেওয়য়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ওই গ্রাহককে। 

কয়েক মাস আগেই ভারতের বাজারে নতুন গাড়ি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে এম মোটর ইন্ডিয়া সংস্থা। তাদের সংস্থার দামি এসইউভি এমজি হেক্টর বাজারে ছাড়া হয়। গত ৩ ডিসেম্বর একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, উদয়পুরের বাসিন্দা বিশাল পাঞ্চোলি নিজের নতুন কেনা এমজি হেক্টর গাড়ি একটি গাধাকে দিয়ে টানিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। 

ওই ক্রেতার অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বর মাসে বাইশ লক্ষ টাকা দিয়ে গাড়িটি তিনি কেনেন। কিন্তু মাত্র দু' হাজার কিলোমিটার চলার পরই সেটির ক্লাচ এবং অন্য কয়েকটি যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দেয়। শোরুমে গেলে সেই সমস্যার জন্য উল্টে ওই ক্রেতার উপরেই দায় চাপানো হয়। সেই বিভ্রাট মিটিয়ে ফের গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে দেড়শো কিলোমিটার চালানোর পরেই তা ফের বিগড়ে যায়। 

ওই ক্রেতার অভিযোগ, এর পর থেকে বার বার সংস্থার কাছে অনুরোধ করলেও কোনওরকম সাহায্য মেলেনি। উল্টে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ওই ক্রেতা। তার পরই ক্ষুব্ধ হয়ে গাধা দিয়ে গাড়ি টানানোর কথা মাথায় আসে তাঁর। উদয়পুরের রাস্তায় একটি গাধাকে ভাড়া করেল নিজের গাড়ি টেনে নিয়ে যান ক্ষুব্ধ বিশাল। 

গোটা গাড়ির গায়ে ইংরেজিতে 'ডনকি ভেহিকেল' লিখে দেন। এমজি সংস্থার ট্যাগলাইন হল 'ইটস আ হিউমান থিং।' তাকে বিদ্রুপ করে বিশাল লেখেন, 'ইটস  আ অ্যানিমাল থিং।' 

এই ভিডিও ভাইরাল হতেই তা নজরে আসে গাড়ি নির্মাতা সংস্থার। দ্রুত তারা ওই গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সংস্থার তরফে গাড়িটি বিনামূল্যে মেরামত করে দেওয়া হয়। তাতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না ওই গ্রাহক। সংস্থার প্রেসিডেন্ট এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজীব ছাবার দাবি, ওই গ্রাহককে এর পর গাড়ির দাম ফিরিয়ে দেওয়া অথবা পাল্টে নতুন গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তাতেও রাজি না হয়ে আরও বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। 

এর আগে অবশ্য ওই সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছিল, এমজি মোটর্স সর্বদা গ্রাহকদের সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার দেয়। বিশাল পাঞ্চোলি নামে ওই গ্রাহকের ক্ষেত্রেও একইভাবে সমস্যা সমাধানে তৎপর হয় সংস্থা। কিন্তু ওই গ্রাহক প্রথম থেকেই সংস্থার ধৈর্যের সুযোগ নিয়ে তাদের বদনাম করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। সংস্থার তরফে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ওই ক্রেতার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।