ফের অযোধ্যা মামলার রায় ঘিরে জটলার পরিবেশ সৃষ্টির ইঙ্গিত। আগামী এক মাসের মধ্যে অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাবে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। এদিন বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, মসজিদের পরিবর্তে অন্য কোথাও জমি নিতে পারেন না তারা।

শেষ হয়েও শেষ হল না। মামলাকারী সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড অযোধ্যা মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিলেও মুসলিম ল বোর্ড মানল না। যার জেরে ফের অযোধ্যা মামলা ঘিরে সরগরম হতে পারে দেশের পরিবেশ। খোদ সেই আশঙ্কা করেছে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।  সম্প্রতি দীর্ঘ শুনানির পর অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। বিতর্কিত জমিতে হিন্দু মন্দির গড়ার নির্দেশ দেয় আদলত। পাশাপাশি অযোধ্যাতেই সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প ৫ একর জমি দেওয়ার কথা বলেছে শীর্ষ আদালত। তিন মাসের মধ্যে এই বিষয়ে ট্রাস্ট গঠন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। কিন্তু সেই রায়ে প্রথমে কিছু না বললেও এবার বিরোধিতায় নামল মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড।  

যদিও এই মামলার  অন্যতম অংশগ্রহণকারী সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের তরফে বলা হয়েছে, এটা তাদের কাছে একটা বন্ধ অধ্যায়। নতুন করে এই ধরনের অধ্যায় খুলে দেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চান না তারা। তবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের এই কথা শুনতে রাজি নয় মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। নিজেরা এই মামলায় পার্টি না হলেও বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, অন্য় মুসলিম মামলাকারীরা এই সিদ্ধান্তে খুশি নয়। তাই সুপ্রিম কোর্টের কাছে মামলার রায় পুনর্বিবেচনার কথা বলবেন তারা। নিজেরা এই মামলায় পার্টি না হলেও প্রথম থেকেই মুসলিম মামলাকারীদের এই মামলায় আইনি ও আর্থিক সাহায্য় করেছে মুসলিম পার্সোনাল  ল বোর্ড। 

সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিলেও মসজিদের জন্য জমি নেওয়ার এখনও কোনও আহ্বান জানায়নি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।  এ বিষয়ে মুসলিম ল বোর্ডের যুক্তি,শরিয়া আইন অনুসারে কোনওভাবেই টাকা বা জমির বিনিময়ে মসজিদ স্থানান্তরিত করা যায় না। গত ৯ নভেম্বর এই মামলার রায়  প্রকাশ হওয়ার পরই নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুসলিম ল বোর্ডের সদস্য ছাড়াও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফারাব জিলানি। তবে প্রথম থেকেই সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নেওয়ার কথা বলেছিল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। অযোধ্যা মামলার রায় বেরোনোর আগে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান জাফর ফারুকি জানান, এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যা রায় দেবে,তাই মেনে নেবেন তাঁরা। নিয়ম অনুসারে এই মামলার তিন মামলাকারীর মধ্য়ে যেকেউ রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাতে পারবে।