কার্গিল যুদ্ধের সময় তিনি নিজেও যুদ্ধক্ষেত্রেই ছিলেন। না নিজে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এমন দাবি করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু চোখের সামনে জওয়ানদের বলিদান দেখে সশ্রদ্ধ প্রণাম করেছিলেন কার্গিলের বীরভূমিকে। কার্গিল বিজয়ের কুড়ি বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই অজানা কাহিনি শোনালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 

প্রধানমন্ত্রী এ দিন বার বারই আক্রমণ করেছেন পাকিস্তানকে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মদতে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদ যেভাবে গোটা বিশ্বের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়েও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। কার্গিল যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৫, ১৯৭১-এর মতো কার্গিলেও পাকিস্তান ছলনার আশ্রয় নিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বার বার ছলনার আশ্রয় নেয় পাকিস্তান। কিন্তু প্রতিবারের মতো কার্গিলেও তাদের ছলনা আর বাস্তবায়িত হয়নি।' ভারত যে বরাবর শান্তির পক্ষে এবং আক্রান্ত হয়েই প্রত্যাঘাত করেছে, তাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। 

কার্গিল যুদ্ধের কথা বলতে গিয়েই প্রধানমন্ত্রী জানান, কুড়ি বছর আগে যুদ্ধের সময় কার্গিলেই হাজির ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য স্বীকার করেছেন, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই কার্গিল যুদ্ধে সেনাদের বলিদানের সাক্ষী ছিলেন তিনি। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'উঁচু পাহাড়ে বসেছিল শত্রুরা। সেখান থেকেই নিজেদের খেলা খেলছিল তারা। মৃত্যুর সামনেও আমাদের জওয়ানরা তেরঙ্গা নিয়ে ঘাঁটি পুনর্দখল করতে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন। জওয়ানদের এই বলিদান দেখে কার্গিলের বীরভূমিকে সশ্রদ্ধ প্রণাম করেছিলাম আমি।'

এ দিন অবশ্য বিজয় দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনীর জন্য তাঁর সরকার কী পদক্ষেপ করেছে, তারও ফিরিস্তি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সরকারই যে এক পদ, এক পেনশন চালু করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছেন, সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কার্গিল যুদ্ধের সময় বাজপেয়ীজি দেশবাসীকে ভরসা দিয়ে বলেছিলেন, যাঁরা দেশের জন্য আত্মবলিদান দিয়েছেন, তাঁদেরকে যথাযথ সম্মান দিতেই হবে। অটলজির সেই ভরসাকে আপনাদের আশীর্বাদে আরও মজবুত করার চেষ্টা করছি। স্বাধীনতার পরে দশকের পর দশক ধরে এক পদ এক পেনশন নীতি আমাদের সরকার তৈরি করেছে। এবার সরকার গঠনের পরে প্রথম সিদ্ধান্তই ছিল শহিদদের সন্তানদের বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো।'

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গোটা বিশ্ব এখন সন্ত্রাসবাদের ছায়াযুদ্ধের শিকার। সন্ত্রাসবাদ মানবতার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এ দিন আশ্বস্ত করেছেন, অদূর ভবিষ্যতে দেশের সেনাবাহিনীর হাতে আধুনিকতম সমরাস্ত্র তুলে দেওয়া হবে। দেশের সেনাবাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার যে সবরকম পদক্ষেপ করবে, সেই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।