ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি যেমন এখন ব্যাট করতে নামলেই কোনও না কোনও রেকর্ড হয়ে যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রায় সেই রকমই এক মানুষ। মাঝে সিএএ-এনআরসি আন্দোলন, আর্থনৈতিক সংঙ্কট, কর্মসংস্থানের অভাবের মতো মৌলিক চাহিদার জেরে তাঁকে খানিক বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব তাঁর হারানো ম্য়াজিক আবার ফিরিয়ে দিয়েছে। গত ২৪ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ভারত জুড়ে ২১ দিনের লকডাউন জারির ঘোষণা করেছিলেন। আর সেই ঘোষণাতেই ইতিহাস গড়ে ফেললেন তিনি।

ভারতে টেলিভিশন রেটিং এবং দর্শকদের পরিসংখ্যানগতভাবে পরিমাপ করে দ্য ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্ড কাউন্সিল বা বিএআরসি। তারা জানিয়েছে গত ২৪ মার্চ রাত ৮টায় পাঁচ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণে, ২১ দিনের লকডাউনের ঘোষণা করেছিলেন, সেই অনুষ্ঠাই এখন ভারতের টিভি অনুষ্ঠানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা অনুষ্ঠান। অর্থাৎ, ওই ঘন্টা আধেকের জন্য যত সংখ্যক ভারতীয় টিভির সামনে চোখ সেঁটে রেখেছিলেন, তত সংখ্যক দর্শক এর আগে আর কোন টিভি অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।

বিএআরসি-র হিসাব অনুসারে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৯৭ মিলিয়ন অর্থাৎ ১৯ কোটি ৭০ লক্ষ দর্শক প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা দেখেছেন টিভিতে। ১২১ কোটি জনসংখ্যার দেশে সংখ্যাটা কম মনে হচ্ছে। জানানো ভালো গত বছর টিভিতে আইপিএল ফাইনাল দেখেছিলেন ১৩৩ মিলিয়ন বা ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ দর্শক। আর প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ড গড়া ভাষণের ৫ দিন আগে, অর্থাৎ ২২ মার্চ জনতা কার্ফু ঘোষণা করার বক্তৃতা দেখেছিলেন ৮৩ মিলিয়ন বা ৮ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ।

এমনকী প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য বড় বড় ঘোষণা শোনার জন্যও এত টিভি দর্শক এর আগে হয়নি। ২০১৬ সালের প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডিমানিটাইজেশন বা নোটবাতিল-এর বক্তৃতা টিভিতে দেখেছিলেন ৫৭ মিলিয়ন বা ৫ কোটি ৭০ লক্ষ দর্শক। আর ২০১৯-এর ৫ অগাস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা টিভিতে চাক্ষুস করেছিলেন ৬৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৬ কোটি দর্শক।

এর থেকেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে দেশ জুড়ে মানুষের উদ্বেগটা স্পষ্ট হচ্ছে। শুধু যে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তি ক্যারিশমা এত লোককে টিভির সামনে ধরে রাখেনি, তা উপরের তুলনাগুলি থেকেই বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা এত মানুষ শুনলেও তিনি বারবার করে যে ঘরে থাকার অনুরোধ করেছেন, তা অনেকেই শুনছেন না। ভারতে কিন্তু নিশ্চিত করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যাটা ৭০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।কাজেই সতর্ক হওয়াটা আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য।