পরিস্থিতি ক্রমশই হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে উল্কা গতিতে। দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেন চিনের প্রেসিডেন্ট সি জিংপিং-এর সঙ্গে। টেলিফোনে দুই প্রেসিডেন্টের বাক্যালাপের পরই ট্রাম্প ট্যুইট করে সে কথা জানান। পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়েছেন, চিনের প্রেসিডেন্ট সির সঙ্গে কথা হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল করোনাভাইরাস, এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে যা ছড়িয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কী করে বন্ধ করতে হবে, কী ভাবে মোকাবিলা করতে হবে পরিস্থিতির তাই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ চিন এই বিষয়টা অনেক ভালো করে জানে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় তাঁরা একসঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন। 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে চিন থেকেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। হুবেই প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল। ডিসেম্বর থেকেই এই মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে চিন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রীতিমত লকডাইনের পথেও হেঁটেছে এই দেশ। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চলেছে হুবেই ও উনান প্রদেশ। 


বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবথেকে বেশি মার্কিন মুলুকে। আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫,৫০০। যা পিছনে ফেলে দিয়েছে চিন ও ইতালিকে। করোনার আঁতুড়ঘর চিনে আক্রান্তের সংখ্যা চিল ৮১,২৮৫। আর করোনায় মৃত্যুপুরী ইতালিতেও আক্রান্ত হয়েছিলেন ৮০,৫৮৯। বৃহস্পতিবারের হিসেব অনুযায়ী করোনায় সংক্রমিত হয়ে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৬৩ জনের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের ৪০ শতাংশই লকডাউনের পথে হেঁটেছে। কর্পোরেট সংস্থাগুলি তাঁদের কর্মীদের বাড়িতে বসেই কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ যানবাহন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলির মধ্যে প্রথম স্থানে থকলেও কিছুটেই এই ছোঁয়াচে ভাইরাসকে বাগে আনতে পরছে না মার্কিন প্রশাসন। যদিও মার্কিন প্রশাসনে উচ্চপদে থাকা কর্তাব্যক্তিদের অভিযোগ চিন ও ইতালি থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে সেদেশে। 

আরও পড়ুনঃ আইশঙ্কাই সত্যি হল, চিন ও ইতালিকে ছাড়িয়ে করোনা সংক্রমণে এখন এক নম্বরে ট্রাম্পের দেশ

আরও পড়ুনঃ করোনা মোকাবিলায় লকডাউন, আার তাতেই পরিষ্কার ভারতের আকাশ-বাতাস

আরও পড়ুনঃ মধুচন্দ্রিমায় সিঙ্গাপুর, হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে উধাও কেরলের আইএইএস

বর্তমানে বিশ্বের ১৯০টি দেশেই করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছেম ৫ লক্ষের ও বেশি মানুষ। ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই মহামারীর দাপটে রীতিমত ভেঙে পড়েছে বিশ্বের অর্থনীতি।