আরব সাগরের নিশ্চিন্তে ভাসছিল একটি জাহাজ। অনেক দূর থেকে তক্কে তক্কে ছিল ভারতীয় রণতরী আইএনএস প্রবাল। জাহাজটিকে লক্ষ্য করে অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ছুঁড়ল ভারতীয় নৌবাহিনী। কিছুক্ষণ পর একেবারে নির্ভুল লক্ষ্যে গিয়ে আঘাত করল সেই জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। দাউ দাউ করে জ্বলতে জ্বলতে আরব সাগরেই সলিল সমাধি হল জাহাজটির। শুক্রবার এমনি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

না, চিন বা পাকিস্তান বা অন্য কোনও দেশের সঙ্গেই যুদ্ধে জড়ায়নি নৌসেনা। নেহাতই, একটা নৌমহড়া। যে মহড়ায় অংশ নিয়েছে যুদ্ধবিমান বাহক আইএনএস বিক্রমাদিত্য এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ, আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, বিমান এবং নৌবাহিনীর অন্যান্য সম্পদ। মাত্র দিন দশেক আগেই চিনা ,সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আর এদিন মুখে নয়, একেবারে হাতে কলমে করে ভারতীয় নৌবাহিনী দেকিয়ে দিল জলপথে যুদ্ধ বাধলে ঠিক কতটা প্রস্তুত তারা। কতটা ভয়ানক রূপ ধারণ করতে পারে।  

ভারতীয় নৌসেনার এক মুখপাত্র এই ভিডিওটি টুইট করেন। তিনি জানিযেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি যে জাহাজটিকে ডুবিয়ে দিল, সেটি ছিল বাহিনীর একটি অতি পুরোনো জাহাজ। সেটি ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ পাল্লার সীমায় ভাসছিসল। সেই দূরত্বেও মিসাইলটি একেবারে নির্ভুলভাবে  মারাত্মক আঘাত করে।

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে চিনকে বিশেষ বার্তা দিতেই ভারতীয় নৌবাহিনী ভারত মহাসাগর অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিতি বাড়চ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারই নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল করমবীর সিং সমুদ্রে ও তীরবর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে তাঁর বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন। অ্যাডমিরাল করমবীর সিং চলমান পরিস্থিতিতে নৌবাহিনীর স্বতঃস্ফূর্ততার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, আগামী কয়েক মাসও এই মেজাজ ধরে রাখতে হবে।