'আইন যখন তাদের বেঁচে থাকার অনুমতি দেয়, তখন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা গর্হিত অপরাধ'। এই যুক্তিতেই বৃহস্পতিবার পাতিয়ালা হাউস কোর্ট, ফাঁসি কার্যকর করার জন্য নতুন তারিখ চেয়ে করা দিল্লি রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ করে দিল। এদিন দুপুর থেকে শুরু হওয়া শুনানির শেষে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট জনিয়ে দেয়, আসামিদের সব আইনি প্রতিকার শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে ফাঁসির দিন ঘোষণা করা হবে না।

এর আগে প্রথমে ২২ জানুয়ারি ও পরে ১ ফেব্রুয়ারি - দুইবার নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার ফাঁসির দিন নির্দারিত হয়েছিল। কিন্তু, দুবারই দুই আসামি আলাদা আলাদা করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিল। দুইবারই তা খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু আইন অনুসারে রাষ্ট্রপতি এই আবেদন খারিজ করে দিলে তারপর থেকে ফাঁসির জন্য প্রস্তুত হতে আসামিদের আরও ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়। এইভাবেই দুইবারই মৃত্যু পরোয়ানায় স্থগিতাদেশ আনতে সফল হয়েছে আসামিপক্ষ।   

এদিন, আদালতে রাজ্য় সরকার জানায়, তাদের হিসেব অনুযায়ী আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই মামলায় আসামিদের বাকি থাকা আইনি প্রতিকার সব শেষ হয়ে যাবে। তাই ২০ ফেব্রুয়ারিই ফাঁসির নতুন দিন নির্ধারণ করা হোক। কিন্তু, সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা যায় না।
 
স্বাভাবিকভাবেই, আদালতের এই সিদ্ধান্তে হতাশা বেড়েছে নির্ভয়ার মা আশাদেবীর। এদিন শুনানির শেষে তিনি জানিয়েছেন, আদালতের হাতে ফাঁসির নতুন দিন দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। তাঁদের কাছে উপযুক্ত সময়-ও ছিল। কোনও মামলাই ঝুলে ছিল না। কিন্তু, তা সত্ত্বেও এখনও মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হল না। তাঁদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত অভিযুক্তদের কতদিন সময় দিয়ে যায়, এবং তাতে সরকার সমর্থন দোগায় তার শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি।