উৎসবের মরসুমে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর। অর্থনীতির গতি বাড়ানোর কথা মাথায় রেখে উত্সবকে অগ্রিম স্কিমের আওতায় কেন্দ্রীয় সরকার, কর্মচারীদের ১০,০০০ টাকা অগ্রীম দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এছাড়া, সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন এলটিসি ক্যাশ ভাউচারের সুবিধাও। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে করে এই কথা জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির জন্য অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে সরকার প্রথম থেকেই দরিদ্র ও আর্থিকভাবে দুর্বলদের সহায়তা করেছে। আত্মনির্ভর ভারত প্যাকেজগুলির চাহিদা বেড়েছে, সঙ্গে কমেছে সরবরাহ শৃঙ্খলের বাধা। এবার অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করতেই এই ফেস্টিভাল অ্যাডভান্স স্কিম চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় রুপে কার্ড-এর মারফত কর্মীদের ১০,০০০ টাকা অগ্রীম দেওয়া হবে। অর্থাৎ এই টাকাটা নগদ হিসাবে তোলা যাবে না, কিন্তু, এই কার্ড দিয়ে অনলাইন শপিং করা যাবে। ২০২১ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এই টাকাটা খরচ করে ফেলতে হবে আর এই টাকাটার জন্য কোনও করও দিতে হবে না।

এর আগে ৪,৫০০ টাকা করে ফেস্টিভাল অ্যাডভান্স দেওয়া হতো কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের। কিন্তু সপ্তম বেতন কমিশনে এই ব্যবস্থা বাতিল হয়েছিল। এই বছর মহমারির প্রেক্ষিতে শুধুমাত্র এক বছরের জন্যই এই সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর আগে এই টাকাটা দেওয়া হতো বোনাস হিসাবে, এইবার এই টাকাটা ফেরত দিতে হবে। তবে তা দেওয়া যাবে সর্বোচ্চ ১০টি কিস্তিতে।

অন্যদিকে এলটিসি ক্যাশ ভাউচার স্কিমের আওতায় সরকারী কর্মচারীরা ভ্রমণ ব্যয়ের পরিবর্তে ছুটি এনক্যাশমেন্ট সুবিধা  গ্রহণ করতে পারবেন। এনক্যাশমেন্ট ছাড়াও টিকিটের ভাড়া তিনগুণ নগদ অর্থ এবং ১২ শতাংশ বা তার বেশি জিএসটি লাগে এমন পণ্য কেনার জন্য নগদ অর্থ তুলতে পারবেন কর্মীরা। তারপর নিজেদের বিবেচনা অনযায়ী তা ব্যয় করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রেও একমাত্র ডিজিটাল লেনদেন করা যাবে এবং জিএসটি চালান দিতে হবে।

নির্মলা সীতারমন আরও জানান, যদি সকল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এই ক্যাশ ভাউচার স্কিম বেছে নেন, তবে এর জন্য সরকারের প্রায় ৫,৬৭৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। আর পিএসবি এবং পিএসইউগুলি তাদের কর্মচারীদের এই সুবিধাটি গ্রহণের অনুমতি দিলে, তাদের জন্য আরও ১,৯০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।