দেশজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। বিজেপি শাসিত রাজ্য হোক বা বিরোধী শাসিত রাজ্য, সবখানেই চিত্রটা এক। নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে ময়দানে নেমেছেন আন্দোলনকারীরা। এই অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিতে হল মোদী সরকারকে।

দেশ জুড়ে কোনও এনআরসি-র ঘোষণা হয়নি। জাতীয় নাগরিক পঞ্জি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ঘিরে বিভ্রান্তি এড়াতে এই বাক্যই লিখল মোদী সরকার। বিজ্ঞাপনে আশ্বস্ত করা হয়েছে, দেশজুড়ে এনআরসি-র ঘোষণা হয়নি, আর তা হলে নিয়ম ও নির্দেশিকা এমন ভাবে তৈরি করা হবে যাতে কোনও ভারতীয় নাগরিক অসুবিধায় না পড়েন। 

শীতকালীন অধিবেশনেই খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, এনআরসি গোটা দেশেই হবে। ঝাঁড়খণ্ডে নির্বাচনী রপ্রচারে গিয়ে ঘোষণা করেঠছিলেন ২০২৪ সালের ভোটের আগেই দেশে এনআরসি তৈরি হবে।  কেন্দ্রের এই বিজ্ঞাপেনর ফলে এনআরসি হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি করে দিল। 

এনআরসি ও সিএএ-র প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভে বেশ বেকায়দায় সরকার। হিন্দুদের মধ্যেও উদ্বেগ ও প্রতিবাদ ছড়িয়েছে। আর তাতে অশনি সঙ্কেত দেখছে পদ্ম শিবিরও। তাই সরকারি বিজ্ঞাপনে দেশবাসীকে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করল বিজেপি সরকার, মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। 

এদিকে এনআরসি ও সিএএ নিয়ে ক্রমেই উত্তাল হচ্ছে দেশ। রাজঝানী দিল্লি সহ ১০টি রাজ্যে ক্রমেই প্রতিবাদের ভাষা আরও শক্ত হচ্ছে। দেশের ১৩টি শহরের মানুষ বৃহসপ্তিবার একসঙ্গে প্রতিবাদে নামেন। যা সামলাতে গুলি চালাতে হয় পুলিশকে। বিজেপি শাসিত কর্ণাটকের মেঙ্গালুরুতে ২ জন এবং উত্তরপ্রদেশের এক জনের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। কারফু জারি করতে হয় মেঙ্গালুরুতে। দেশজুড়ে আটক ও গ্রেফতার হন বহু মানুষ। রাজধানীতে আটক করা হয় সীতারাম ইয়েচুরি, ডি রাজা, নীলোৎপল বসু, বৃন্দা কারাট, যোগেন্দ্র যাদব, উমর খালিদের মত নেতারা।