রাষ্ট্রপতির সমম্মতির অপেক্ষা। তারপরই আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ - ভারতের এই তিন প্রতিবেশী দেশ থেকে ধর্মীয় কারণে ‘অত্যাচারিত হয়ে’ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে চলে আসা অমুসলিমদের আর 'অনুপ্রবেশকারী' বলা হবে না। অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যাবতীয় মামলাও প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু দেশে অত্যাচারিত অমুসলমান শরণার্থীদের সেই সংখ্যাটা কত?

নাগরিকত্ব বিল সংক্রান্ত অন্যান্য সব বিষয়েই হোমওয়ার্ক করে এলেও এর কোনও সঠিক হিসাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও দিতে পারেননি। বুধবার রাজ্যসভায় অসমের কংগ্রেস সাংসদ রিপন বোরা জানান, ২০১৬ সালেই বিলটি সংসদে প্রথম উত্থাপনের সময় থেকেই গত তিন বছরে এই নিয়ে একাধিকবার সরকারকে প্রশ্ন করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কোনও নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

এই প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব অমিত শাহ-এর কাছেও নেই। তাঁর ব্যখ্যা আইন না থাকায় কেউই সাহস করে নিজেকে শরণার্থী আখ্যা দিতে চাননি। এখন আইন হওয়ার পর সবাই সাহস করে এগিয়ে আসবেন। সংখ্যাটা লাখ বা কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে তাঁর ধারণা।

অতীতে সিবিআই প্রধান এই বিল নিয়ে আলোচনার সময় সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানিয়েছিলেন, ৩ দেশ থেকে মাত্র ৩১ হাজার ৩১৩ জন সংখ্যালঘু ভারতের নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করেছেন। বুধবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই হিসেব দিয়েছেন, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত  মোট ৩৯১ জন আফগানি এবং ১,৫৯৫ জন পাকিস্তানি শরণার্থীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, 'বেআইনি অনুপ্রবেশকারী' অমুসলিম শরণার্থীর সংখ্যা কত তার কোনও হিসেব সরকারের কাছে নেই।