কেন্দ্রীয় সরকার গোপনীয়তার অধিকারকে সম্মান করে। আর এটি  লঙ্ঘনের কোনো ইচ্ছেও কেন্দ্রীয় সরকারের নেই। হোয়াটঅ্যাপের একটি বিশেষ বার্তার উৎস প্রকাশের জন্য এমনই বিবৃতি জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের সার্বভৌম্যতা, অখণ্ডতা, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্যই এই কেন্দ্রীয় সরকার গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, শিশু নির্যাতনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর মনোভাব গ্রহণ করতে পারে। 

কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, গোপনীয়তার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার একটি ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানিয়েছেন ভারত সরকার তার সমস্ত নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কবে একই সঙ্গে আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি নিশ্চিত করতেও বদ্ধপরিকর। রবিশঙ্কর প্রসাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রস্তাবিত পদক্ষপের কোনওটাই হোয়াটসঅ্যাপের স্বাভাবিক কার্যকারিতার ওপর কোনও ভাবে প্রভাব ফেলবে না। সাধারণ ব্যবহারকারী ওপরেও কোনও প্রভাব পড়বে না। দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হওযার পরেই এই বিবৃতি জারি করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ইলেক্ট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে। যাতে এনস্ত্রিপ্ট করা বার্তাগুলি অ্যাক্সেস দেওয়ার সংস্থার প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা সুরক্ষা ভেঙে দেবে বলেই সরকারের নতুন ডিজিটাল নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানান হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমস্ত প্রতিষ্ঠিত বৈচারিক আদেশ অনুসারে গোপনীয়তার অধিকার নিরঙ্কুশ ও এটি যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের সাপেক্ষ। তথ্যের প্রথম প্রবর্তক সম্পর্কিত মধ্যস্থতাকারী গাইডলাইনগুলিতে প্রয়োজনীয়তা যেমন যুক্তিসংগত সীমাবদ্ধতার উদাহরণ। 

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মধ্যস্থতাকারী গাইডলাইনের বিধি ৪(২) অনুযায়ী পরীক্ষার মাধ্যমে যে কোনও কিছু পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। এই পরীক্ষার ভিত্তি হল কম কার্যকক বিকল্প প্রতিকার পাওয়া যায় কিনা। মধ্যস্থতাকারী গাইডলাইগুলি অনুসারে তথ্যের সূচনা কেবল এমন দৃশ্যেই পাওয়া যাবে যেখানে অন্যান্য প্রতিকারগুলি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এটি শেষ অবলম্বন।  এই ধারার অধিকারি প্রথম প্রবর্তককে সনাক্ত করার জন্য এজাতীয় আদেশ কেবলমাত্র সার্ববৌমত্ব সম্পর্কি কোনও অপরাধ প্রতিরোধ তদন্ত শাস্তি ইত্যাদিক উদ্দেশ্য়ে পাশ করা হবে। যাঁরা জনস্বার্থের নাম করে এজাতীয় অপরাধ করবে তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। 

মধ্যস্থতাকারী নির্দেশিকাগুলির ৪(২) বিধি বিচ্ছিন্নতা কোনও পরিমাপ নয়। হোয়াটসঅ্যাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবে বিভিন্ন স্টকহোল্ডারদের ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পরামর্শের পর এই বিধিগুলি তৈর করা হয়েছিল। ২০১৮ অক্টোবরের পর গুরুতব অপরাধের ক্ষেত্র প্রথম প্রবর্তককে সনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সম্পর্কিত লিখিতভাবে হোয়াটসঅ্যাপের দ্বারা ভারত সরকারকে কোনও নির্দিষ্ট আপত্তি করা হয়নি। তবে সাধারণ নির্দেশিকাগুলি কার্যকর করতে সময় চেয়েছিল তবে কোনও তখনও জানায়নি যে তা সনাক্ত করা অসম্ভব। কিন্তু এতকিছুর পরেও হোয়াটঅ্যাপ মধ্যস্ততাকারী নির্দেশিকাগুলি কার্যকর করার চেষ্টা করছে না। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জাল সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া রোধ করেত চাইছে না। উল্টে সেগুলি আটকানোর চেষ্টা করছে। প্ল্যাটফর্মের বার্তাগুলি এনক্রিপ্ট করা শেষ হবে এমন ব্যকিত্রম খোদাই করে মধ্যস্থতাকারী নির্দেশিকা কার্যকর করতে অস্বীকার করে এই সংস্থা। 

রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছিলেন এনক্রিপশন বজায় থাকবে কিনা সে সম্পর্কে পুরো বিতর্ককে ভুল জায়গায় স্থান দেওয়া হয়েছে। সরকার ভারতীয় নাগরকিদের গোপনীয়তার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসাধারণের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেত ও জাতীয় সুরক্ষা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উপায় ও প্রয়োজনী তথ্য জানতে বদ্ধপরিকর। কোন প্রযুক্ততিতে তা সমাধান করা যায় তা দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই। 

আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা সরকার একচি বৈঠক করেছিল ২০১৮ সালে। তখনই স্থির হয়েছিল প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এনক্রিপ্ট হওয়া পণ্য পরিষেবাদিগুলির ধারনা পেতে উপযুক্ত, পাঠযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য ডেটা অ্যাক্সেস পেতে পারে। ব্রিজিলিয় আইন অনুযায়ী সন্দেহজনক আইপি ঠিকানা, গ্রাহকের তথ্য, ভূ অবস্থানের ডেটা ও শারীরিক বার্তা সরবরাহ করতে হোয়াটসঅ্যাপ অনুসন্ধান শুরু করেছে। তুলনায় গোপনীয় ভারতে আইন কম মানছে এই সংস্থা। ভারত সরকারে এই উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দহ করা বোকামি হবে বলেও জানান হয়েছে। দেশের নাগরিকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।