ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় যশ (Cyclone Yass) ওড়িশার উত্তর উপকূলবর্তী বালাসোরের কাছে ধামরা গ্রামে আছড়ে পড়েছিল বুধবার সকালে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার। প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ে এখনও পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বুধবার বিকেল থেকেই এটি শক্তি হারাতে শুরু করে। তাই নতুন করে আর বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে মনে করছে প্রশাসন। 

বিশেষ ত্রাণ কমিশনার প্রদীব জেনা জানিয়েছেন, প্রথমিক মূল্যায়নের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তেমন আশঙ্কা জনক নয়। তিনি বলেছেন বালাসোর ও ভদ্রক জেলায় বালাসোর থেকে ভদ্রক পর্যন্ত উপকূলবর্তী এলাকায় ২-৩ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। তা ময়ূরভঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সন্ধ্যে থেকেই ঝড়ের দাপট কমবে। তবে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেনওঝাড় আর বালাসোরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। 


স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে বালাসোরের উপকূলবর্তী তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ। একইভাবে ভদ্রকে বানভাসী গ্রামের সংখ্যা ১০। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। জল সরানোর জন্য রাস্তা কাটার কাজও শুরু হয়েছে। জনজীবন স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে গাছ কাটাসহ একাধিক কাজ শুরু করেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল। একই সঙ্গে কাজ করছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক জানিয়েছেন ঘূর্ণিঝ়় বিধ্বস্ত এলাকায় একাধিক উদ্ধারকীর দল কাজ করছে। পিডাব্লুডির সঙ্গে কিউআরটি ও ডিআরএফ দল এক জোট হয়ে কাজ করছে। রাস্তা থেকে গাছ কাটা বা সমুদ্রের জল বার করে দেওয়ার ব্যবস্থা দ্রুততার সঙ্গে করছে। 

তবে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি ওড়িষার বিস্তীর্ণ এলাকায আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসই দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত উপকূলবর্তী জেলাগুলিকে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।