১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় দেশ ভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে আরও একবার দেশে ভাগ করা হচ্ছে ধর্মের ভিত্তিতে। ধর্মকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হচ্ছে ভারতের করোনা মানচিত্র। এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রকের বিরুদ্ধে। সোমবার অবশ্য এই অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন, ভুল এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে উড়িয়ে দিল মন্ত্রক।

গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশে করোনা হটস্পটগুলি নির্ধারণ করা হচ্ছে ধর্মের ভিত্তিতে। এদিন সরকারের পক্ষ থেকে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল তা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, 'এটা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদ। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই বলেছে, কোনও জাল সংবাদ প্রকাশিত হওয়া উচিত নয় এবং কোনও খবর তথ্য যাচাইয়ের পরেই প্রকাশ করা উচিত। তারপরেও এমনটা হওয়া দুর্ভাগ্যজনক'। তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের কাছে সরকার অনুরোধ করছে এই ধরণের ভিত্তিহীন সংবাদকে যেন কেউ উৎসাহ না দেন। এই মারাত্মক রোগের বিস্তারের সঙ্গে জাতি, ধর্ম, বা অঞ্চলের কোনও সম্পর্ক নেই।

তিনি জানান, ভারতে কিছু ক্লাস্টার বা গুচ্ছ সংক্রমণের এলাকা চিহ্নিত করা গিয়েছে। সেইসঙ্গে সারা দেশে কিছু কিছু জায়গায় কোভিড-১৯'এর বৃহত প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাই এটি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাতে মনোনিবেশ করা এবং দেশ যাতে গোষ্ঠী সংক্রমণের পর্যায়ে না পৌঁছায় তা নিশ্চিত করাটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

এদিন সরকার কোভিড-১৯ উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের নিজে থেকেই এগিয়ে এসে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য আবেদন করেছে। এতে করে তাদের থেকে অন্যদের শরীরে করোনভাইরাস রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সোমবার রাত পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাস মামলায় মোট সংখ্যা ৬৮,৭৮৯ এবং মৃতেপর সংখ্যা ২২২৩।