আরোগ্য সেতু অ্যাপ নিয়ে বিতর্ক ক্রমশই দানা বাঁধেছে। দেশের মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেই আরোগ্য সেতু অ্যাপকে ব্যবহার করা হতে পারে। আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ফ্রান্সের এক হ্যাকারও জানিয়েছিল আরোগ্য সেতু অ্যাপ থেকে যে কোনও সময়ই তথ্য চুরি করা সম্ভব। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আরোগ্য সেতু অ্যাপ নিয়ে ড্যামেড কন্ট্রোলে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

সোমবার তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান হয়েছে আরোগ্য সেতু অ্যাপ শুধুমাত্র করোনা আক্রান্তদের চিহ্নিত করতেই তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপের মূল উদ্দেশ্য করোনা মহামারীর প্রকোপ কমিয়ে আনা। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত পরিসর ও তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। সমস্ত নিয়ম মেনেই তৈরি করা হয়েছে এই অ্যাপটি। ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ৯ কোটি মানুষ আরোগ্য সেতু অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন। খুব তাড়াতাড়ি ১০ কোটির গ্রুপের সদস্য হতে পারা যাবে বলেও মন্ত্রকের তরফ থেকে জানান হয়েছে। 

হ্যাকারদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়েছে আরোগ্যসেতু অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত। মন্ত্রকের তরফ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে ব্যবহারকারীদের তথ্য শুধুমাত্র করোনা নির্ণয়ের জন্যই ব্যহহার করা হচ্ছে। অ্যাপটি তৈরি করেছে ন্যাশানান ইনফরমেশন সেন্টার। মন্ত্রকের তরফে জানান হয়েছে ব্যবহারকারীদের তথ্য শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত সার্ভারেই রাখা হয়েছে। পুরো ব্যবস্থাটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠ বলেও দাবি করা হয়েছে। তথ্য ব্যবহার করতে পারবে স্বাস্থ্য মন্ত্রক, রাজ্যসরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত সংস্থাগুলি। তৃতীয় কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে তথ্য দেওয়া হবে না বলেও নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। 


ব্যবহারকারীর তথ্য উদ্দেশ্য পুরণ হওয়ার পর আর ব্যবহার করা হবে না। তথ্য সংগৃহীত হওয়ার পর সর্বাধিক ১৮০ দিন পর্যন্ত থাকবে। তারপর আপনা থেকেই সমস্ত তথ্য মুছে যাবে। প্রয়োজনে ব্যবহারকারী এনআইসিকে তথ্য মুছে ফেলার অনুরোধও করেতে পারে। সেক্ষেত্র এনআইসি ৩০ দিনের মধ্যেই তথ্য মুছে দিতে সক্ষম। মন্ত্রক সূত্রে আরও বলা হয়েছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী অ্যাপ তৈরির ৬ মাসের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। প্রয়োজনে আরও আগেও পর্যালোচনা করতে পারবে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে অ্যাপের নিয়ম ৬ মাসের জন্যই কার্যকর করা হয়েছে।