বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাই এখনই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার এই প্রথম কোনও প্রকাশ্যে নিজের মতামত ব্যক্ত করলেন শচীন পাইলট। রাজস্থান রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোরের ৭২ ঘণ্টা পর ৪২ বছরের এই রাজনীতিবিদ বুধবার স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এখনও কংগ্রেসেই রয়েছেন। 

অন্যদিনে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের ডাকা বিধায়কদের পরপর দুটি বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন শচীন পাইলট। বৈঠকে হাজির হননি তাঁর অনুগামীরাও। সেই কারণে এদিন শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামী ১৮ বিদ্রোহী বিধায়ককে নোটিশ পাঠান হয়েছে। আগামী ২ দিনের মধ্যেই অনুপস্থিতির কারণ লিখে জানাতে বলা হয়েছে। 

শচীন পাইলটের আগামী পদক্ষেপ কী হবে?  এখনও পর্যন্ত তা স্পষ্ট করে জানাননি তিনি। তবে তিনি জানিয়েছেন এখনই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করেননি তিনি। বিজেপিতে তাঁর যোগদান নিয়ে গুজব ছড়ান হয়েছিল বলেই অভিযোগ করেন পাইলট। তিনি আরও বলেন গান্ধী পরিবারের চোখে তাঁকে ছোট করতেই এই জাতীয় গুজব ছড়ানো হয়েছিল। তবে গত রবিবার শচীন পাইলট জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দেখা করার কারণ জানাতে অস্বীকার করেন তিনি। তবে এদিন শচীন পাইলট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন রাজস্থানের মানুষের সেবা করতে চান তিনি। 

অন্যদিকে পাইলটের কথায় ২০১৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান দাবিদার ছিলেন তিনি। রাহুল গান্ধীর কারণেই অশোক গেহলটের সঙ্গে বিবাদে ইতি টেনে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদেই সন্তুষ্ট থাকেন তিনি। কিন্তু রাহুল গান্ধী কংগ্রেস প্রধানের পদ থেকে সরে যাওয়ার পরই অশোক গেহটল ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে পদে পদে অসম্মান করে বলেই অভিযোগ তুলেছেন শচীনের সহযোগীরা। 

মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা দ্বিগবিজয় সিং-এর কথায় খুব অল্প বয়সেই সাংসদ হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন। রাজস্থানে দলের প্রধান করা হয়েছিল তাঁকে। উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। তাই এখনই হটকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে আরও ধৈর্য ধরা উচিৎ ছিল বলে জানিয়েছেন দ্বিগবিজয় সিং। এই দ্বিগবিজয় সিং আর কমল নাথের সঙ্গে বিবাদের জেরেই দল ছেড়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। 

জাতীয় স্তরে এক কংগ্রেস নেতার কথায় প্রথম দফার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। সংখ্যার বিচারে তিনি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন শচীন পাইলটের থেকে। কিন্তু এখন থেকে প্রায় নিত্যদিনই সরকার রাখতে ৬২ বছরের অশোক গেহলটকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখী হতে হবে।