সামনেই কর্নাটকের ১৫টি আসনের উপনির্বাচন। সেই আসনগুলি কংগ্রেস জেডিএস জিততে পারলে ফের বিজেপিকে রাজ্যের ক্ষমতা থেকে সরানোর সুয়োগ আসতে পারে। কিন্তু জেডিএস নেতা কুমারস্বামী ও কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়ার মধ্য়ে তিক্ততা যে হারে বাড়ছে, তাতে সেই সম্ভাবনা এখন একেবারেই ক্ষিণ হয়ে উঠেছে।

সোমবারই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী বলেছিলেন, কংগ্রেস যে নাটক করেছে, তা তার জানা। কংগ্রেসের জাতীয় নেতাদের কোনও দোষ নেই। কিন্তু কর্নাচকে সিদ্দারামাইয়ার জন্য়ই লোকসভা নির্বাচনে দাগ কাটতে পারেনি কংগ্রেস-জেডিএস। হাইকমান্ড তাঁকে মুখ্য়মন্ত্রী করলেও রাজ্য়ের কংগ্রেস নেতারা কেউ তাঁকে সমর্থন করেনি বলে জানিয়েছেন জেডিএস নেতা।    

এরপর সিদ্দারামাইয়া জবাবে বলেছিলেন কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী না ভেবেচিন্তেই কথা বলেন। অভিযোগ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জেডিএস নেতা জিটি দেবগৌরাই বলেছিলেন বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কথা। প্রশ্ন করেন কারা নাটক করছে, জেডিএস নাকি কংগ্রেস?

এর জবাবে মঙ্গলবার কুমারস্বামী আবার বললেন, তিনি সিদ্দারামাইয়ার পোষা তোতা নন। তাঁর বাবা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবদৌড়ার ছত্রছায়ায় সিদ্দারামাইয়ার মতো অনেকেই নেতা হয়েছেন। তিনি আরও জানান, তিনি মুখ্য়মন্ত্রী হয়েছিলেন কংগ্রেস হাইকমান্ডের আশীর্বাদে। কিন্তু, হাইকমান্ডের নির্দেশ ক্রমাগত সিদ্দারামাইয়া অগ্রাহ্য করে গিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছন কুমারস্বামী। তাঁর মতে হাইকমান্ডের নির্দেশ যদি কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা মানতেন, তাহলে জোট সরকার টিকে যেত বলেই দাবি করেছেন তিনি।

জেডিএস ও কংগ্রেসের এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব যে কর্নাটরে বর্তমান মুখ্য়মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ইয়েদুরাপ্পার মুখের হাসি আরও চওড়া করবে তা বলাই বাহুল্য। কর্নাটক বিধান সৌধে এই মুহূর্তে ১০৬ টি আসন রয়েছে বিজেপির। সরকার ধরে রাখতে উপনির্বাচনের ১৫টি আসনের অন্তত ৬টিতে বিজেপিকে জিততেই হবে। এই প্রত্যেকটি আসনই বিধানসভা নির্বাচনে ছিল কংগ্রেস ও জেডিএসের হাতে। দুই দলের শীর্ষ দুই নেতার ঝামেলা বিজেপির কাজটাই সহজ করে দিচ্ছে।