পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলে এনপিআর-এর কাজ করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে বিজেপি-জেডিইউ সরকার চলতি বছরের ১৫ মে থেকে ২৮ মে-র মধ্য়েই জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন বা এনপিআর আপডেট করার প্রক্রিয়া চালাবে বলে জানিয়ে দিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী।

শুক্রবারই কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ১১ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সিএএ ও এনআরসি-র বিরোধিতায় জোট বাঁধার ডাক দিয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি-র সঙ্গী দল জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমার-এর কাছেও এসেছিল সেই চিঠি। এবার রাজ্যের বিশিষ্ট বিজেপি নেতা তথা উপমুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন এনআরসি-র প্রথম ধাপ এনপিআর আপডেটের কাজ এই রাজ্যে হবেই। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়েছেন, রাজ্যের কোনও সরকারি কর্মকর্তা যদি এনপিআর আপডেটের কাজ করতে অস্বীকার করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুশীল মোদী জানিয়েছেন ২০২০ সালের এপ্রিলের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত গোটা দেশে এনপিআর আপডেট করা হবে। আর বিহার এই কাজ সেড়ে ফেলবে ১৫ই মে থেকে ২৫মে-র মধ্যেই। এনপিআর তৈরির প্রক্রিয়াটি ২০১০ সালে ইউপিএ শাসনকালেই হয়েছিল সেই কথাও মনে করিয়ে দেন মোদী। ২০২১ সালের জনগণনার ঠিক আগে ২০২০ সালে এনপিআর ২০১০-এর সেই তথ্যকে 'আপডেট' করা হচ্ছে মাত্র।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২০১৯ সালের বার্ষিক রিপোর্টে সাফ লেখা ছিল এনপিআর-ই হবে এনআরসি-র প্রথম ধাপ। কিন্তু, সুশীল মোদীর দাবি, এনপিআর এবং এনআরসি দুটি আলাদা বিষয়।পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলের মুখ্যমন্ত্রী-কে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন যদি পারেন তবে তাঁদের রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন এবং এনপিআর বাস্তবায়ন না করে দেখান। তাঁর মতে কোনও রাজ্যই সিএএ বা এনপিআর বাস্তবায়ন করতে অস্বীকার করতে পারবে না। কারণ কেন্দ্রের নাগরিকত্ব নিয়ে আইন আনার ক্ষমতা রয়েছে। আর এনপিআর আপডেট করাটা একটি বিধিবদ্ধ বিধান, যা কোনও রাজ্যই প্রয়োগে অস্বীকার করতে পারে না।