ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর চড়াল কংগ্রেস। লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশনে কংগ্রেস সাংসদরা দাবি করলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য সত্যি কি না তা লোকসভায় এসে বিবৃতি দিয়ে জানান প্রদানমন্ত্রী। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অবশ্য রাজ্যসভায় দাবি করে বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কখনওই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার কথা বলেননি। 

আরও পড়ুন- কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতা চান মোদী, ট্রাম্পের এই দাবিকে 'মিথ্যা' প্রমাণ করল ভারত

এ দিন লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হওয়া মাত্রই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সরব হন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী এবং আনন্দ শর্মা। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর দাবি করেন, 'এটা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্য সত্যি কি না তা দেশবাসীর জানা দরকার। তবে কি ভারত আমেরিকার সরকারের কাছে ভারত সরকার মাথা নত করল? ভারত কোনও দেশের সামনে মাথা নত করতে পারে না। আমাদের দেশে সেনারা শক্তিতে কারও থেকে কম নয়। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী নিজে লোকসভায় এসে বিষয়টি স্পষ্ট করুন।' অন্যদিকে একই দাবিতে রাজ্যসভায় সরব হন কংগ্রেস সাংসদ আনন্দ শর্মা। তিনি অবশ্য স্পষ্ট করে দেন, তাঁরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নন. ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেই বিশ্বাস করেন। 

বিষয়টি নিয়ে লোকসভায় সরব হন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ও। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে দাবি করেছেন, তা পাকিস্তান নিয়ে ভারতের নেওয়া অতীত অবস্থানের পরিপন্থী। বিদেশমন্ত্রী নন, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের দাবি জানান তৃণমূল সাংসদও।

যদিও বিরোধীদের দাবি মেনে সংসদে কোনও বিবৃতি দেননি নরেন্দ্র মোদী। এ দিন সংসদে এসে নিজের ঘরেই ছিলেন তিনি। যদিও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন কোনও অনুরোধ করেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারত ধারাবাহিকভাবেই পাকিস্তানের সঙ্গে যাবতীয় সমস্যা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর পক্ষে। শুধু তাই নয়, সেই ধরনের কোনও আলোচনা শুরুর আগে পাকিস্তানকে যে সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গত মাসে জাপানের ওসাকায় জি- ২০ বৈঠক চলাকালীন দেখা হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তখনই নাকি নরেন্দ্র মোদী তাঁকে কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতা করতে অনুরোধ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য সামনে আসার পরেই সরকারিভাবে তা মিথ্যে বলে জানিয়ে দেয় ভারত।